বাইজিদ মন্ডল, ডায়মন্ড হারবারঃ হিমেল হাওয়া ও হালকা কুয়াশায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এখন শীতের আমেজ চলছে। শীতের মৌসুমে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার থানার প্রত্যন্ত বাসুল ডাঙ্গা অঞ্চলের মানুষ। শুরু হয়েছে শীতের খেঁজুর রস আহরণ। এই রস আহরণে গাছিরা এখন যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
এই মৌসুমে আবহমান বাংলায় খেজুর রস আহরণ, খেঁজুর গুড় আর নবান্নের উত্‍সব একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। আর খেঁজুর রসের পিঠা পায়েস বাংলার উপাদেয় খাদ্য তালিকায় এখনও জনপ্রিয়।

বাসুল ডাঙ্গা অঞ্চলের গাছি জেনালী মন্ডল জানান, বছর জুড়ে অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকলেও শীতকালে চাষিদের কাছে খেঁজুর গাছের কদর বেড়ে যায়। কারণ এই গাছ থেকেই আহরিত হয় সুমিষ্ট রস।
আর এই রস জ্বালিয়ে ঝোলা গুড়, দানা গুড় ও পাটালি তৈরি করা হয়। খেঁজুরের গুড় থেকে এক সময় বাদামি চিনিও তৈরি করা হত। যার মৌতানো স্বাদ ও ঘ্রাণ সর্ম্পূণ ভিন্ন। খেঁজুর গাছের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-যত বেশি শীত পড়বে তত বেশি মিষ্টি রস দেবে। শীতের সকালে খেঁজুর রস পান শরীর ও মনে প্রশান্তি এনে দেয়। খেঁজুর রস আহরণ আর তার থেকে বিভিন্ন উপাদেয় খাদ্য তৈরি আবহমান বাংলার সংস্কৃতির অনুষঙ্গ। খেঁজুরের নলেন গুড় ছাড়া শীত মৌসুমের পিঠা খাওয়া জমে না।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার এর কৃষকরা নতুন ধান সংগ্রহের পাশাপাশি খেঁজুর রস আহরণ শুরু করেছে। খেঁজুর গাছের ডগায় বাঁশের তৈরি বিশেষ নল লাগিয়ে সংগ্রহ করা হয় ফোটায় ফোটায় রস। মাটির হাড়িতে খেঁজুর রস সংগ্রহ করা হয়। তবে আজকাল প্লাস্টিকের বোতলেও খেঁজুর রস আহরণ করে চাষিরা। শীতের পুরো মৌসুম জুড়ে চলবে রস, গুড়, পিঠা-পুলি, পায়েস খাওয়ার পালা। এখন নতুন গুড়ের মিষ্টি গন্ধে ধীরে ধীরে আমোদিত হয়ে উঠেছে গ্রাম-বাংলা।