সংবাদদাতা, বসিরহাটঃ- ইয়াসের তান্ডবের পর কেটে গেছে এক সপ্তাহ। সামনেই ফের বড় কোটালে নদীর জল ফেঁপে এলাকায় ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করতে পারে। অথচ সুন্দরবনের প্রত্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় এখনও পর্যন্ত বাঁধের কাজ শুরু হয়নি এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাই নদী পাড়ের মানুষ আতঙ্ক সব সময়।

এদিন টাকি জালালপুর গিয়ে দেখা যায় সেখানে ইছামতি নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল বিস্তীর্ণ এলাকা । মানুষের দাবি ত্রাণ নয়, আমাদের কংক্রিটের বাঁধ চাই, অথচ এখনো পর্যন্ত বাঁধ তো দূরের কথা এক কোদাল মাটি ও পড়েনি । ভাঙা জায়গায় ক্ষুব্দ এলাকার মানুষদের দাবি এভাবে বছর বছর আর কত বাড়ি ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে হবে কত ফসল নষ্ট হবে।

এছাড়াও গরিব চাষিরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ১০বছর আগে ইছামতি নদীর ধারে জেগে ওঠা চর দখল করে শুরু হয়েছিল ইটভাটার মাটিকাটা। এবং পরবর্তীতে ওই বাঁধ পাশে ভেরি তৈরি করা নদীর জল নেওয়া বাঁধ হচ্ছে নরম। এছাড়াও আরও জানান, শীতে আর বর্ষায় মাছ চাষ বন্ধ করা যায়নি। কারণ ততোদিনে এলাকার একাংশ ওই দুই ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছে ।

এই বিষয়ে ওই এলাকার বাসিন্দা সোমনাথ রায় ও কাজল দফাদার বলেন, সে দিনের কথা মনে পরলে আজও ভয়ে বুক কেঁপে ওঠে দুপুরে সবে খেতে বসেছি এমন সময় প্রতিবেশীদের চিৎকার কানে এলো বাঁধ ভেঙে জল ঢুকছে গ্রামে, সবই সবাই নিরাপদ আশ্রয় দিকে পালাও । এই পরিস্থিতিতে সঙ্গে কিছু নেওয়ার মতো সময় ছিল না। বাচ্চাদের কোন রকমে পিঠে কাঁধে বসিয়ে মহিলাদের হাত ধরে গিয়ে উঠি ত্রাণ শিবিরে। ততো সময় ইছামতীর জল কোমর সমান ছুই ছুই ।

সে দিনের দুর্ঘটনার পর পুরসভা থেকে ত্রাণ মিললেও গ্রামবাসীদের দাবি খেটে খুটে এক বেলা খাবার জুটলেও বছর বছর ঘরবাড়ি ভেঙে সর্বোচ্চ জলের তলায় চলে যাওয়া সহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না, আমরা চাই জীবন-জীবিকা বাঁচিয়ে রাখার জন্য কংক্রিটের বাঁধ তৈরি করা হোক। এইরকম উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে নিলে জালালপুরে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিজেদের জীবন রক্ষা করতে পারে । টাকি পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পরে জালালপুর ওই ওয়ার্ড।

টাকি পৌরসভার বিদায়ী কাউন্সিলার সাধন দাস বলেন, এক সময় আমরা চেষ্টা করেছিলাম নদীর বাঁধ কেটে জল ঢুকিয়ে ভাটার জন্য মাটি যেন না নেয়। মেছো ভেরি বন্ধ করতে চাইলেও গ্রামের একাংশ তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ফলে দিন দিন ব্যবসায়ীদের লোভের মাত্রা বাড়ায় নদীর বাঁধ কেটে জল ঢুকিয়ে পলি মাটি বালি জমানোই এবং মাছ চাষের ফলে আমাদের এখন বছর বছর ভুগতে হচ্ছে। আমাদের সাধ্যমত আমরা মানুষকে ত্রাণ দিয়েছি। তবে মানুষ চায় এখানে কংক্রিটের বাঁধ। আমাদের দাবি কংক্রিটের বাঁধ হলে মানুষ বাঁচবে, নয়তো একদিন এখানে এসে দেখা যাবে ইছামতির বক্ষে সর্বস্ব তলিয়ে গেছে।