অলোক আচার্য, নিউ বারাকপুরঃ- পাড়ার খেলাধুলা করে বন্ধুদের সাথে ঝিলে সাঁতার কাটতে গিয়েছিল। বন্ধুদের সাথে একসঙ্গে জলে নেমে সাঁতার কাটতে গেলে জলে তলিয়ে যায়। স্থানীয় মানুষেরা চিৎকার চেঁচামেচিতে স্থানীয় দুই যুবক জলের গভীরে নেমে যুবককে ঝিলের পাড়ে তুললে হার্ট অ্যটাক এ মারা যায় যুবক। বন্ধুদের সাথে জলে নেমে সাঁতার কাটতে গিয়ে রবিবার রাতে জলে ডুবে মৃত্যু হয় ২২ বছরের যুবক। নাম তমোঘ্ন রায়চৌধুরী। ডাক নাম গোগোল। বাড়ি নিউ বারাকপুর পুরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের এস এন ব্যানার্জি রোডে। অ্যামাজনে রিস্ক অ্যানালাইজার পদে বেসরকারি সংস্থার কাজ করতো। আগে ব্যাঙ্গালোরে ছিল। করোনা অতিমারি আবহে কলকাতা কর্মরত। দমদম সেন্ট স্টিফেন্সে পড়াশোনা করে ২০২০ গুরুদাস কলেজ থেকে জার্নালিসম এন্ড মাস কমিউনিকেশন করে এই অ্যমাজনে চাকরি।

শুক্রবার-শনিবার ছুটি। রবিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত বাড়ি ছিল। বিকেলে ৪-৩০ মিনিট বাড়ি থেকে বেরিয়ে বন্ধুদের সাথে পাড়ায় ফুটবল খেলতে যায়। খেলাধূলো শেষে পুরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডের ৬নং ঝিলে (মিতালি ঝিল) সাঁতার কাটতে গিয়ে রবিবার রাতে খবর আসে গোগোল জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। ছোটবেলায় সাঁতার শিখেছিল। গোগোলের এফিলেপ্সি মৃগি রোগ ছিল। সাঁত বছর আগে ঔষধ ও খেয়েছিল। ডাক্তার বলেছিল ঝিলে বা পুকুরে জলে নামলেই এই রোগে আচমকাই আক্রান্ত হতে পারে। জানিয়েছেন গোগোলের দিদি বর্ননা রায়চৌধুরী। ছেলেটির বাবা অশোক রায় চৌধুরী ৭ মাস আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। তারপর ছেলের জলে ডুবে মৃত্যু। দিদি পেশায় আর্কিটেকচার।ব্যাঙ্গালোরে পোস্টিং ছিল। করোনা নিউ বারাকপুরে নিজ বাড়িতে।

দুঃসময়ে দুঃসংবাদ অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও পুর নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বুধবার বিকেলে রাজ্যের মন্ত্রী, ব্যারাকপুর এসডিও, এসিপি ঘোলা, নিউ বারাকপুর পুরসভার মুখ্য প্রশাসক তৃপ্তি মজুমদার, প্রাক্তন পুরপিতা সুখেন মজুমদার, পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য প্রবীর সাহা, সুমন দে, তৃণমূল নেতা দেবাশিস মিত্র সহ স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকেরা পরিবারের বাড়ি গিয়ে যুবকের মা দিদি আত্মীয়দের পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানান। পাশে থাকবেন প্রতিশ্রুতি দেন। পরিবারের হাতে দু লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন।

মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক অনুপ্রেরণায় নির্দেশে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। যে কোন মৃত্যুই দুঃখজনক বেদনাদায়ক। একমাত্র ছেলে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব সময় দুর্ঘটনা বা দুর্ভাগ্য জনক মৃত্যুর অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাধ্যমতো আর্থিক সহায়তা করে থাকেন। নিউ বারাকপুর পুরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের এস এন ব্যানার্জী রোডে যুবকের জলে ডুবে মৃত্যু সংবাদে প্রশাসনের তরফে সব কিছু দেখে এই আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে।

নিউ বারাকপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুখেন মজুমদার বলেন, নিউ বারাকপুর পুরসভার ৬নং ঝিল পাড়ে ছেলেটি গত রবিবার রাতে জলে ডুবে মারা গিয়েছে। ছেলেটিকে বাচঁনোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছিল স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায়। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা ও গভীর জল থেকে ঘাটে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বাচঁতে। শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনাটি তৎখনাত রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কে মৃত্যু সংবাদ টি জানালে। রাজ্যের মানবিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বুধবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পাশে দাঁড়িয়ে তাদের হাতে দু লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

ছিলেন পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকেরা ও ব্যারাকপুরের এসডিও, এসিপি ঘোলা ও নিউ বারাকপুর থানার পুলিশ আধিকারিক ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 + 16 =