সানওয়ার হোসেন, ডায়মন্ড হারবার :- বিশিষ্ট চিকিৎসক তথা সিপিআই(এম) দ:২৪ পরগনা জেলা কমিটির প্রাক্তন সদস্য কমরেড আবুল হাসনাত প্রয়াত হলেন। জেলার বিশাল অংশের গরিব খেটে খাওয়া মানুষ হারালেন তাদের বন্ধুকে। মাত্র ৬৪ বছর বয়সে তিনি চির বিদায় নিলেন। ডায়মন্ড হারবার মহকুমা হাসপাতালে তিনি ছিলেন একজন গরীব দরদী সার্জেন। হয়েছিলেন মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক। গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি ডায়মন্ড হারবার লোক সভা কেন্দ্র থেকে বামফ্রন্টের পার্থী হয়ে অভিষেক ব্যানার্জীর কাছে পরাজিত হন।
প্রকৃত কমিউনিস্ট বলতে যা বোঝায় তিনি ছিলেন তাই। মাত্র পঞ্চাশ টাকা ফি তে রোগী দেখতেন তিনি। বহু মানুষের বিশেষ করে গরীব মানুষ তাঁর সাহায্য পায়নি সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তিনি অসহায় মানুষের চিকিৎসা শুধু নয় বড় বড় জটিল অস্ত্র পচার ও করিয়েছেন বিনা মূল্যে। ডায়মন্ড হারবার একজন নিষ্ঠাবান মানুষকে হারালো। সংস্কৃতি প্রেমী এই মানুষটি কুসুমের ফেরা র একান্ত সুহৃদ ছিলেন। নিয়মিত নাটক, গান বাজনার পাশাপাশি যে কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রক্তদান শিবির, রবীন্দ্র ভবন সর্বত্র স্বক্রিয় ছিলেন। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন ডায়মন্ড হারবার বাসি।

বর্ধমান জেলার মানুষ ছিলেন তিনি। ১৯৫৫ সালে তাঁর জন্ম। কুসুমের ফেরা সাহিত্য পত্রিকার নানা অনুষ্ঠানে তিনি আর্থিক সহায়তাও করতেন। একসময় তিনি মুমূর্ষ রুগীকে রক্তদান করতেও কুণ্ঠিত করেননি। এমন রত্নকে হাত ছাড়া করেননি জ্যোতি বসু। মগরাহাট বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি টিকিট পান। এক মানব দরদী চিকিৎসক হয়ে উঠলেন মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক। তারপর তো ইতিহাস।