অলোক আচার্য, নববারাকপুরঃ- বৃহস্পতিবার বিকেলে ফুসফুসে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে নিউটাউনে এক বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেলেন শিক্ষাবিদ নববারাকপুর পুরসভার ১৮ নং ওয়ার্ডের কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলর। বাড়ি নববারাকপুর পুরসভার ১৮ নং ওয়ার্ডের পূর্ব কোদালিয়া। রেখে গেলেন স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যা সহ নাতি-নাতনিদের। মৃত্যু কালে বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। বোটানিতে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে নববারাকপুর কোদালিয়া আগাপুর উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু। তারপর শেষ পনেরো বছর বেলঘড়িয়া প্রফুল্লনগর প্রফুল্ল চন্দ বিদ্যাপীঠে প্রধান শিক্ষক হিসেবে সুনামের সঙ্গে চাকরি করেন।

জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস ঘরানায় ১৯৮৫ সালে নববারাকপুর পুরসভার ১৮ নং ওয়ার্ডের ভোটে দাঁড়িয়ে জিততে পারেননি। পরে নব্বই দশকে কংগ্রেসের থেকে পুনরায় পুরসভার ১৮নং ওয়ার্ডের ভোটে বামফ্রন্ট কে হারিয়ে কাউন্সিলার নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ১৭নং ওয়ার্ডে পুরভোটে দাঁড়িয়ে হেরে যান। নববারাকপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি ছিলেন সমীরণ গুহ নিয়োগী। দীর্ঘ তিন বছর শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। ভর্তি হয়ে ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার ইএম বাইপাস বেসরকারি হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে ভর্তি করা হয় নিউটাউনে টাটা ক্যান্সার হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যু সংবাদে নববারাকপুর শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে শববাহী যানে দেহ আসতে নববারাকপুরে কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপি এবং শাসক দলের নেতা কর্মীরা উপস্থিত থেকে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান। বাড়ি তে দেহ আসতে কান্নায় শোকের ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী সহ কন্যা, পুত্র, পুত্র বধূ সহ এলাকার বিশিষ্ট শুভানুধ্যায়িরা, বন্ধু রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থকরা। সুকন্যা সহেলী গুহ নিয়োগী বারাসত অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপিকা পদে নিযুক্ত রয়েছেন।

সমীরণ গুহ নিয়োগীর ঘনিষ্ঠ নববারাকপুর পুরসভার ১৮নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার মিহির কুমার দে বলেন, পুরনো দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সহকর্মী সুহৃদ কে হারালাম। ব্যক্তি হিসেবে ভালো মানুষ ছিলেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে অদম্য সাহসী পরিশ্রমী লড়াকু সহযোদ্ধা ছিলেন। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার বসবাস থেকে নববারাকপুরে শিক্ষকতা নব্বই দশকের বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াকু নেতৃত্বে তার অবদান অনস্বীকার্য।মৃতদেহ শববাহী যান নিয়ে কলকাতা নিমতলা মহাশশ্মানে শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয়।