অলোক আচার্য, কলকাতাঃ- রবিবার সকালে প্রখ‍্যাত সাংবাদিক ও প্রেস ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি ও সম্পাদক কমল ভট্টাচার্যের প্রয়াণে কলকাতা প্রেস ক্লাব শোকস্তব্ধ হয়ে পড়লো। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগের সমস‍্যা দেখা দিয়েছিল তার। তার স্ত্রী ও মেয়ে তার শুশ্রূষা করছিলেন। তিনি যুক্ত ছিলেন সংবাদ প্রতিদিন পত্রিকার সাথে।

তিনি সংবাদ প্রতিদিনের সংবাদপত্রের ব‍্যুরো চিফ ছিলেন নিউ দিল্লিতে এবং প্রধান সাংবাদিকের পদে আসীন ছিলেন কলকাতায়। তার আগে দুই দশক ধরে তিনি যুগান্তর ও অমৃতবাজার পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন। শেষ কয়েক দিন দৈনিক আর্থিক লিপি সংবাদপত্রে প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে কাজ করেছেন। তিনি শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলি সুনামের সঙ্গে কভার করতেন এবং একজন প্রখ‍্যাত রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও ছিলেন।

জাতীয় ও রাজ‍্য স্তরে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উন্নয়নমূলক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। ভারতের বেশ কিছু প্রধানমন্ত্রীদের সাথে বিদেশ সফরেও সামিল হয়েছিলেন তিনি।
তিনি কলকাতা প্রেস ক্লাবের প্রধান ও সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন । এছাড়াও তিনি বেশ কিছু সাংবাদিক সংগঠনগুলির সাথেও যুক্ত ছিলেন।কলকাতা প্রেস ক্লাবে আই জে র সন্মেলনে দেখা গেছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। স্নাতকোত্তর স্তরে পাঠকালে তিনি অতি-বাম কৃষক আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং সেইসময় কিছুদিন জেলেও কাটাতে হয়েছে।

সাংবাদিকমহলে তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন। বিশেষত কনিষ্ঠ সাংবাদিকরা তাকে ভীষণ পছন্দ করতেন তার স্নেহপূর্ণ , সাহায‍্যকারী ও প্রদর্শক সুলভ আচরণের জন‍্য। কলকাতা প্রেস ক্লাবের তরফ থেকে সহৃদয় শ্রদ্ধার্ঘ‍্য ও সান্ত্বনা জ্ঞাপন করেছে তার পরিবারের প্রতি।তার মৃত‍্যুতে সাংবাদিকজগতে এক গভীর শূন‍্যতার সৃষ্টি হল।

কারণ এই মানুষটি প্রেস ক্লাবের উদ্দেশ‍্যে সর্বদা নিজের পরামর্শ ও সাহায‍্যের হাত বাড়াতে প্রস্তুত থাকতেন। হুগলি জেলার হিন্দমোটর থেকে প্রকাশিত খাস সমাচার পাক্ষিক সংবাদপত্রের সম্পাদক গোসাই চন্দ্র দাস বরিষ্ঠ আদর্শবান সাংবাদিক কমল ভট্টাচার্যের আকস্মিক প্রয়ানে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ১০ই মে অর্থাৎ আগামীকাল তার সম্মানে প্রেস ক্লাবের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।