গৌরবাজারে ২৫০ বছর আগে তাঁতিদের অভাবের সময় পান্ডে রাজপরিবার দুর্গাপূজার দায়িত্ব নেয়, এখনো প্রাচীন রীতি মেনে পূজা চালিয়ে আসছে বর্তমান পান্ডে পরিবার

0
Advertisement

সনাতন গরাই, দুর্গাপুর :- ২৫০ বছর আগে দুর্গাপুরের গৌরবাজারে তাঁতিরা সার্বজনীন ভাবে দুর্গাপূজা করতো। তখন গৌরবাজার তাঁতী পাড়া বলে জানত সকলে। একপাশে অজয় নদ আর একপাশে দুর্গাপুরের গভীর জঙ্গল, তার মধ্যেই কিছু লোক বসবাস করতো সেকালের ছোট্ট গ্রামে।হটাৎ একসময় দুর্গাপুরে দুর্যোগ হয় যার ফলে মাথায় হাত পরে যায় সকলের, দুর্যোগের ছায়া নেমে আসে গৌরবাজার গ্রামে।অজয় নদী পার হয়ে রাজরাজরা বিস্তীর্ন জঙ্গলে শিকারে আসতো গৌরবাজার ও দুর্গাপুরের জঙ্গলে।

সেইসময় রাজাদের গৌরবাজারের এই জঙ্গল ভালো লেগে যায় এবং এই জায়গায় তৈরি হয় রাজদুর্গ।পাশাপাশি তৈরি হয় পানশালা। ঠিক তখনি তাঁতিরা বিধবা রানী মোক্ষদা সুন্দরী দেবীর কাছে তাদের এই সম্যসার কথা জানান। রানী মোক্ষদা সুন্দরী তাদের কথা শুনে পুরো দায়ীত্ব নেন দুর্গাপূজার। রাজ পরিবারে তখন থেকেই হয়ে আসছে দুর্গাপূজা। তাঁতিদের কাছ থেকে দায়ীত্ব নেওয়ার পর তৈরি হয় বিশাল দুর্গা মন্দির,দুর্গার পাশে তৈরি হয় লক্ষীনারায়ণ মন্দির ও শিব মন্দির।

রাজ পরিবারে তখন পাঁচ দিন মহা ধুমধাম করে পালিত হত দুর্গাপূজা। ঠিক তখন থেকেই দুর্গাপূজার দায়িত্ব বহন করে আসছে গৌরবাজারের পান্ডে পরিবার। রাজবংশ এই জায়গায় আধিপত্য বিস্তারের পর থেকে তাঁতিপাড়া থেকে নাম পাল্টে বাবুপাড়া হয়ে যায়।

পরিবারের একজন প্রবীণ সদস্য আর্যকুমার পান্ডে জানান তখনকার রাজদুর্গ প্রায় ভগ্ন।মন্দিরের অবস্থাও খুব একটা ভালো না পুরাতন ঐতিহ্য তাই সংস্কার করলে নষ্ট হয়ে যাবে ঐতিহাসিক নিদর্শন তবুও দুর্গামন্দিরের অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় সংস্কার করতে হয় পূজার সময়।

অপরদিকে লক্ষীনারায়ণ ও শিব মন্দির ও এবার সংস্কার না করলে ভেঙে পড়বে।আমাদের পুরাতন রাজদুর্গ,পানশালা থেকে সমস্ত রাজবাড়ী ভগ্ন অবস্থায়।এখন আমাদের পরিবারে প্রায় ১০০জন সদর্শ।পরিবারের ছেলে মেয়েরাও যারা বাড়ির বাইরে থাকে তারাও পূজার সময় বাড়িতে আসে।এখনও পাঁচদিন ধরে চলে পূজা একাদশীর দিন প্রতিমা বিসর্জন হয়।আর্যবাবু জানান প্রতিমা গড়ার কাজ এক মাস আগে থেকে শুরু হয়।আর্যবাবু জানান এখন কিছু ঘাটতি পড়েছে তবুও আগের মতো পূজা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

7 − 3 =