অলোক আচার্য, বারাসত :- আজীবন গবেষণা কর্মের জন্য বিগত ১২বছর ধরে গোপাল হালদার স্মারক সম্মান দিয়ে চলেছে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার নিউবারাকপুর থেকে প্রকাশিত গবেষণাধর্মী পত্রিকা। গত বছর পেয়েছিলেন শান্তিনিকেতনের আশ্রমিক প্রখ্যাত শিল্পী ও শিল্প গবেষক সুশোভন অধিকারী। এবছর এই পুরস্কার পেলেন পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক অভ্র ঘোষ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা দফতরের বিদ্যাসাগর পুরস্কার ও পেয়েছেন অভ্র ঘোষ। রবিবার বারাসত সুভাষ ইনস্টিটিউট হলে দ্বাদশ বর্ষ গোপাল হালদার স্মারক সম্মাননা মানপত্র ও রৌপ্য পদক তুলে দেন ড. অমিয় রতন ধারা ও তথ্যসূএ গবেষনাধর্মী পত্রিকার সম্পাদক ড. সুব্রত রায় চৌধুরী। স্মারক বক্তৃতার বিষয় গোপাল হালদারের বিদ্যাসাগর চর্চা। প্রাজ্ঞল ভাষায় বক্তব্য রাখেন অভ্র ঘোষ। তথ্যসূএ পত্রিকা একজন তরণ গবেষককে ওসবিতা দেবী স্মারক সম্মান দিয়ে থাকে। এবছর এই সম্মান পেলেন অহর্নিশ পত্রিকার সম্পাদক তরুণ গবেষক শুভাশিস চক্রবর্তী। তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও মানপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. অমিয় রতন ধারা।স্বাগত ভাষণ দেন প্রদীপ চন্দ্র গাইন। তথ্যসূএ গবেষণাধর্মী পত্রিকার সম্পাদক ড. সুব্রত রায় চৌধুরী সম্পাদকীয় ভাষনে বলেন ১৯৯৬ সালে পত্রিকার পথ চলা শুরু। ২৪তম বর্ষ তথ্যসূত্রের জীবনানন্দ সংখ্যার আবরণ উন্মোচন করা হল। অনুরাগী পাঠক ও জীবনানন্দ গবেষণাধর্মী পত্রিকার এদিন প্রকাশিত হয়। তথ্যসূএ একটি লিটল ম্যাগাজিন। গোপাল হালদার ও সবিতাদেবী নামাঙ্কিত স্মারক সম্মান প্রদানের ক্ষেত্রে ও এবছর লিটল ম্যাগাজিনের শর্তকেই প্রথম ও প্রধান করে দেখেছেন। যে দুজন সম্মান পেলেন তারা প্রত্যেকেই লিটল ম্যাগাজিনের জন্য নিবেদিত প্রাণ। উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন সোহিনী ঘোষ। সুরেলা কন্ঠে আমি বাংলায় গান গাই.. বেশ সাবলীল। ১৯৭২ সালে গোপাল হালদার সম্পাদনা করেছিলেন বিদ্যাসাগর রচনা সংগ্রহ এবং ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হল ‘ প্রসঙ্গ বিদ্যাসাগর ‘। রচনাসংগ্রহের ভূমিকা ও পরবর্তী গ্রন্থভুক্ত প্রবন্ধগুলিতে গোপাল হালদার বিদ্যাসাগরের শিক্ষা ও সমাজ সংক্রান্ত চিন্তা ও দর্শনের তন্ন তন্ন বিশ্লেষণ করেছিলেন। অভ্র ঘোষ বলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যিকে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য কলকাতা ও বাংলায় মডেল মাত্রায় বেথুন স্কুল সহ ৩০টি মেয়েদের বিদ্যালয় তৈরি করেছেন বিদ্যাসাগরের প্রধান ভূমিকা নারীশিক্ষায়। মহতী অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বহু বিশিষ্ট সাহিত্যঅনুরাগীরা উপস্হিত ছিলেন।