-: অগ্নিভ ভৌমিক :-

চায়ের দোকানে বসে পুরনো বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি। আড্ডা তখন ভালোই জমে উঠেছে। অনেক দিন পর আবার একসঙ্গে বসে জমিয়ে গল্প হচ্ছে। গল্প বলতে দূর্গাপূজোর কার কি প্লান, কে কোথায় যাবে ইত্যাদি। বলাবাহুল্য গল্পের বিষয়বস্তু থেকে বাদ যায়নি ‘জাতীয় বাবা’ গান্ধীজিও। একহাতে চায়ের কাপ আর অন্য হাতে সিগরেট। সঙ্গে ঠোঙা ভর্তি তেলেভাজা, ভাগাভাগি করে খাওয়া হচ্ছে।

হঠাৎ কিছুক্ষণ পর ‘অ’ ‘আ’ ‘ক’ ‘খ’ জানা কিছু শিক্ষিত মানুষের আবির্ভাব হল চায়ের দোকানে। চায়ের অডার দিয়ে তারা ‘বাবা’কে নিয়ে বেশ জোড় গলায় তর্কাতর্কি শুরু করল। তাদের কথাবার্তা শুনে বুঝতে পারলাম তর্ক-বিতর্কটা এক পাক্ষিক। মনদিয়ে শুনতে লাগলাম। বোঝার চেষ্টা করছিলাম- তারা বলতে কি চাইছে? তাদের আলোচনায় অনেক মনোনিবেশ করে একটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

তাদের যুক্তিতর্কের সারমর্ম করলে দাঁড়ায়, – গান্ধী দেশটাকে পুরো শেষ করে দিয়ে চলে গেছে। আজকের ভারতের এই অবস্থার জন্য শুধুমাত্র এই বুড়োলোকটা দায়ী।

কথাটা শুনে খটকা লাগল। তাহলে যে ছোটবেলা থেকে গান্ধীকে এত ইতিহাস পড়লাম, ইতিহাস পরীক্ষার দিন পাতার পর পাতা ‘গান্ধী গান্ধী’ করে ভরিয়ে দিলাম, গান্ধী এই করেছে, গান্ধী সেই করেছে সব তাহলে ভুয়ো ছিল?! শেষমেষ গান্ধী দেশটাকে শেষ করে দিয়ে গেছে!!!!!!!

এইসব চিন্তা তখন মাথায় ঘুরছে। হঠাৎ সেই ঘূর্ণিপাক থেকে একটা প্রশ্ন উঁকি মারলো।
আচ্ছা মানলাম ‘গান্ধী দেশটাকে শেষ করে দিয়ে গেছে।’। আমার স্বাধীনতা পেয়েছি ১৯৪৭এ। গান্ধীজি মারা গেছেন ১৯৪৮এ। অর্থাৎ হিসেব করলে ‘স্বাধীনতা পাওয়া’ আর ‘গান্ধি মারা যাওয়া’র পর ৭০/৭১ বছর পার হয়ে গেছে।

তাহলে এই সাত দশক পরেও, কেন আমরা কোন একসময় শেষ হয়ে যাওয়া দেশটাকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারিনি? নাকি দেশটাকে নতুন করে গড়ে তোলার ইচ্ছেই জাগেনি কখন আমাদের মধ্যে?

ইতিহাসকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় থাকে। ভবিষ্যতে নয়। তাই তাকে ‘ইতিহাস’ বলে।