অলোক আচার্য, নব বারাকপুরঃ- প্রবোধ চন্দ্র দে ডাক নাম মান্না দে ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সেরা সঙ্গীত শিল্পী এবং সুরকারদের একজন। গায়ক হিসেবে ছিলেন আধুনিক বাংলা গানের জগতে সর্বস্তরের শ্রোতাদের কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ও সফল সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব। এছাড়াও হিন্দি এবং বাংলা সিনেমায় গায়ক হিসেবে অশেষ সুনাম অর্জন করেছেন।রবিবার বিখ্যাত সঙ্গীত সাধক অমরশিল্পী মান্না দের ১০৩ জন্মদিনে বিনম্র সঙ্গীতাঞ্জলি আয়োজন করেছিল নব বারাকপুর স্বর্ণালী সঙ্গীত নিকেতনের অধ্যক্ষ সঙ্গীতের দাসানুদাস বেতার ও দূরদর্শন শিল্পী স্বপন চক্রবর্তী তার পূর্ব কোদালিয়া স্কুল রোডে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুদৃশ্য মঞ্চে।

বিশ্ববরেণ্য সুরসাধক মান্না দে’র ১০৩ তম জন্মদিন সন্ধ্যায় শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলন করে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন গীটার বাদক পন্ডিত স্বপন সেন। ছিলেন প্রখ্যাত যন্ত্রসংগীত পরিচালক রামকৃষ্ণ পাল, নববারাকপুর পুরসভার পুরপ্রধান প্রবীর সাহা এবং স্বপন চক্রবর্তী। ছিল শঙ্খ ধ্বনি। এক অসাধারণ মূহুর্ত। মান্না দের প্রতিচ্ছবিতে মালা ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অতিথিরা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবক রা।অতিথিদের পুষ্পস্তবক ও মানপত্র দিয়ে সম্মানিত করেন সংগীত শিল্পী স্বপন চক্রবর্তী।

পন্ডিত স্বপন সেন বলেন, এত সুন্দর অনুষ্ঠানে আসতে পেরে নিজেকে অহংকারী মনে করছি। আপ্লুত এত জনসমাগম। বিশেষ করে স্বপন চক্রবর্তীর মতো গুণী শিল্পী মান্না দে কে স্মরণ করে তার জন্মদিন পালন নিজ দায়িত্বে। খুব ভালো লাগছে দেখে শুনে উপস্থিত থাকতে পেরে। বহু বছর বিভিন্ন শিল্পীদের সঙ্গে গীটার বাজিয়েছি। মান্না দে এক মহাপুরুষ ছিলেন। যন্ত্রসংগীত পরিচালক রামকৃষ্ণ পাল বলেন, একটা সৌভাগ্য আমার হয়েছে মান্না দের শেষ গানের একটা স্কেল আমি করেছি। বলতে দ্বিধা নেই বহু শিল্পী মান্না দের গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। স্বপন নিজ চেষ্টায় এত সুন্দর একটা পরিবেশ অনুষ্ঠান করছে। কুর্নিশ জানাই তার সাহসিকতার।

পুরপ্রধান প্রবীর সাহা বলেন, গান বাজনা আমার নেশা। শুনতে ভালো লাগে বরাবরই। বাবা ঠাকুরদারা মান্না দের গান শুনেছেন। স্বপন দার মতো প্রথতিযশা গুণী শিল্পীর ডাকে এই সঙ্গীতাঞ্জলি অনুষ্ঠানে এসে খুব ভালো লাগছে। শুরুতে স্বর্ণালী সংগীত নিকেতনের শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবক বৃন্দ তিনটি সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন। সংগীত পরিচালনায় স্বর্ণালী চক্রবর্তী। শিল্পীদের কন্ঠে শোনা গেল মান্না দের বেশ জনপ্রিয় গান ‘ এক ঝাঁক পাখিদের মতো কিছু রোদ্দুর…, গহন মেঘের ছায়া… চার দেয়ালের মধ্যে নানা দৃশ্যতে। অংশগ্রহণ কারী ছাত্র ছাত্রীদের উৎসাহ প্রদানে মানপত্র প্রদান করা হয়। সুন্দর মঞ্চ। গুরু শিষ্যের পরম্পরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ গুরু স্বপন চক্রবর্তী কে ফুলের তোড়া, প্রীতি উপহার তুলে দিয়ে সংবর্ধিত করে। এরপর একক সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী প্রদোষ চট্টোপাধ্যায়।তার সুরেলা কন্ঠে শোন গেল ‘ টুকরো হাসির জল ছবি.. বাজে গো বীনা।স্বর্ণালী চক্রবর্তীর কন্ঠে অভিমানে চলে যেওনা বেশ সাবলীল। সঙ্গীত শিল্পী মান্না দের স্নেহধন্য দেবাশীষ দেব’ র কন্ঠে আমি যামিনী… সেই তো আবার ভালো পরিবেশন। শিল্পী শান্তিদেব ভট্টাচার্য গাইলেন নস্টালজিক দীপ ছিলো শিখা ছিলো। ভারী সুন্দর উপস্থাপনা।

শিল্পী সুকন্যা কর্মকার গাইলেন আজ আবার সেই পথে, আমি সুখী হলে.. বেশ সাবলীল। শুভ্রকান্তি চট্টোপাধ্যায়ের সুরেলা কন্ঠে তোমার দেহের ভঙ্গিমাতে চমৎকার গান শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। শেষ শিল্পী স্বপন চক্রবর্তীর কন্ঠে ছম ছম বাজেরে পায়েলিয়া।দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে সকল শ্রোতাদের মন জয় করলেন। তবলা সংগতে রাধাকান্ত নন্দীর সুযোগ্য পুত্র মান্না দের সতেরো বছর যাবৎ তবলা সঙ্গত কারী মানিক নন্দী।এক সুন্দর যুগলবন্দী উপস্থাপনা। কীবোর্ডে তমাল সরকার। এফেক্টস এ তরুণ দাস।অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা তিন থেকে চারটি গান পরিবেশন করেন এদিন সংগীতাঞ্জলি অনুষ্ঠানে। এছাড়া ও শিল্পী দের সাথে তবলা সংগতে ছিলেন তবলার যাদুকর রাধাকান্ত নন্দীর সুযোগ্য শিষ্য সুজিত রাউত, শ্যাম সুন্দর চট্টোপাধ্যায়। শিল্পীদের মানপত্র ও পুষ্পস্তবক দিয়ে সন্মানিত করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বাচিক শিল্পী আবৃত্তিকার সমীর চট্টোপাধ্যায়।

অনুষ্ঠানের আয়োজক স্বর্ণালী সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ সংগীত শিল্পী স্বপন চক্রবর্তী বলেন মান্না দের ৯০ তম জন্মদিন থেকে ধারাবাহিক ভাবে সংগীতাঞ্জলি অর্পণ অনুষ্ঠান করে চলেছি। ২০১৯ সালে এই কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী তথা সুরকারের জন্ম শতবর্ষ একশটি গান গেয়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে পালন করা হয়েছিল।অনুষ্ঠানে বহু বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী, সংস্কৃতিনুরাগী গুনীজনেরা উপস্থিত ছিলেন ।