ভিড়ভাট্টার শহরে বাঘ-সাজে বহুরূপীকে দেখে পিছন পিছন ছুটেছিল ছোট্ট ভাই। বাঘের বাড়ি দেখবেই সে। দায়িত্ব পড়ল বাবা-মায়ের উপরে। সেই সূত্রেই প্রথম কুমায়ুনের বিখ্যাত জঙ্গল-চত্বরে পা।

করবেট সাহেবের সেই যত্নের অঞ্চল দর্শন অবশ্য তার পরেও হয়েছে বারবার। এক এক বয়সে তা এক এক রূপ ধারণ করেছে। অরণ্য রং বদলায়, কে না জানে? তবে উত্তরাখণ্ডের করবেট ন্যাশনাল পার্ক রূপও বদলায়। একই ভূখণ্ডে এ জঙ্গল হাজার অনুভূতির মিশেল। কখনও একাকী, কখনও মায়াবী, কখনও সোহাগী, কখনও সর্বগ্রাসী।

নৈনিতাল জেলার বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটারের পথ। পাঁচিলে ঘেরা কারখানা লাগোয়া অফিসার্স বাংলো। সেই বাংলো থেকে বেরিয়ে, ছয় মানুষ সমান গেটের সামনে দাঁড়ানোদের খান দশেক সেলাম পেরিয়ে খেলার মাঠের উদ্দেশে মাঝেমধ্যেই ছুটত ছুটির সকালের গাড়িটা। যেখানে পৌঁছে দম নিতেন চালক, সেটি যে আসলে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি ন্যাশনাল পার্ক, তা বোঝার সময় হয়নি শৈশবে। ছোটি হলদ্‌ওয়ানির ধারকাছে গাড়িটা পৌঁছলে তাই শুধু ডাক দিত সবুজ প্রান্তর জুড়ে খেলার মেজাজ। জানা ছিল না, এ দেশের নামী বাঘেদের ডেরা সেখানেই। কুমায়ুন পর্বতের পাদদেশের সেই অঞ্চলে শাল, পাইন, বাঁশ গাছের মধ্য দিয়ে পিঠে বন্দুক নিয়ে আধা আইরিশ সাহেবের অ্যাডভেঞ্চার, নিজের ইতিহাসপ্রেমী দাদুর দৌলতে কণ্ঠস্থপ্রায়। তবু কখনও ঘন সবুজ, কখনও শ্যাওলা, কখনও বা কচি কলাপাতা আর হলুদে ঘেরা বনাঞ্চল বন্ধুত্বপূর্ণ এক ছুটিরই পরিচয় তখনও। বাঘ তো দূর অস্ত্‌, খান কয়েক প্রজাতির বাঁদর ছাড়া আর বিশেষ কোনও পশুরই দেখা মেলেনি সে সময়ে! ফলে ছুটির দিনের করবেটে সঙ্গে যেত ব্যাট-বল! খেলার ছলে শুধু খোঁজ চলত বাঘের পায়ের ছাপের। থমথমে করবেট-জঙ্গলে সাফারি কাকে বলে, তা দেখবে কৈশোর।