খুনের মাষ্টার মাইন্ড নাবালক! মাত্র দশ হাজার টাকার জন্য তিন বন্ধুকে কাজে লাগিয়ে পাওনাদার কে খুন, তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক

0
Advertisement

সংবাদদাতা, বারাসত :- ২১জুলাই, ২০১৬ সালে মাত্র দশ হাজার টাকার জন্য সুপরিকল্পিত ভাবে তিন বন্ধুকে কাজে লাগিয়ে পাওনাদার কে খুন।খুনের মাস্টার মাইন্ড জয়দেব দাস এর বয়স বছর সতেরো।সুরজিৎ কর্মকার(25),রাজু শীল(23),ত্রিদিব বিশ্বাস (24)কে নিয়ে চলন্ত গাড়ির মধ্যেই দড়ি দিয়ে নিউটাউন থানা এলাকায় নেপাল ঘোষ(38)কে শ্বাসরোধ করে খুন করে জয়দেব। বর্তমানে জয়দেব দাস জুভেনাইল কোর্টে বিচারাধীন।বারাসাত ফার্স্ট ট্রাক্ট ফার্স্ট কোর্ট গতকাল বৃহস্পতিবার ওই তিন জনকে দোষী সাব্যস্ত করে।শুক্রবার বিচারক শ্রীময়ী কুন্ডু তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রত্যেকের দশ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড ।রায় ঘোষণা হতেই কাঠ গোড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিন আসামী।
2016 সালের 21 সে জুলাই জয়দেবের ফোনে পেয়েই বরানগরের বাড়ি থেকে বেড় হন, পেশায় লন্ড্রি মালিক নেপাল ঘোষ।ছয়মাস আগে নেপালের কাছে জয়দেব 10,000 টাকা ধার নিয়েছিলো,যা শোধ দেবার সময়সীমা পার হয়ে গেলে তাগাদা দিতে থাকে নেপাল।এরই ফলশ্রুতিতে টাকা শোধ দেবার নাম করে তাকে বাড়ি থেকে ফোনে ডেকে নিয়ে আসে জয়দেব। এই সমস্ত ঘটনার সাক্ষী নেপালের বন্ধু প্রদীপ নন্দী।জয়দেবের কাছে খবর ছিল নেপালের কাছে মোটা অংকের টাকা রয়েছে।সে আরো জানত, তার হাতে ও শরীরের নানা অংশে আছে সোনার অলংকার।নেপাল কে খুন করে টাকা ও স্বর্ণালংকার সমস্তই হাতিয়ে তার বখড়া দেবার কথা বলে জয়দেব প্রলুব্ধ করে তার তিন সকরেদদের।প্রসঙ্গত, এরজন্য সে সুরজিত যে কিনা স্কর্পিও গাড়ির ড্রাইভার তাকে সুচারু ভাবে কাজে লাগায়।গাড়ির মধ্যে পৈশাচিক ভাবে শ্বাসরোধ করে চারজন মিলে খুন করে নেপাল কে এরপরে লোহার রড দিয়ে নেপালের চোয়াল ও মাথার খুলি চুরমার করে অভিযুক্তরা। ইতিমধ্যে 2016 সালের 22 শে জুলাই রাত বারোটার পরে খুন হওয়া নেপালের খোঁজ না পেয়ে নেপালের নামে মিসিং ডায়রি করে পরিবার।ইতিমধ্যে তিনকন্যা মাঠে নিউটাউন থানার পুলিশ একটি অজ্ঞাত পরিচয় দেহ উদ্ধার করে । একটি অস্সাবভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ।নিউটাউন থানার ic শুভদীপ নস্কর সুওমটো মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।22 তারিখে মৃতের বাড়ির লোক বিষয় টি জানতে পেরে দেহ সনাক্ত করে।তদন্ত চলাকালীন জয়দেব পরিকল্পনা করে খুন এর কথা স্বীকার করে নেয়।মৃতের কাছ থেকে 25 হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার হত্যাকাণ্ডের পরে চারজন ভাগ করে যে নিয়েছিল সে কথাও স্বীকার করে জয়দেব।ভারতীয় দণ্ডবিধির 302,201,120B ধারায় প্রায় তিন বছর মামলা চলার পর দোষী সাব্যস্ত হয় অভিযুক্তরা।সাজা ঘোষণার পর নেপাল ঘোষের দাদা গোপাল ঘোষ জানান,তিনি আইনের বিচারে খুশি।অন্যদিকে এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত নাবালক জয়দেব দাস এর মামলার বিচার চলছে শিশু আদালতে। সরকারি আইনজীবি গৌতম সাহা জানান নাবালক এধরনের খুনের পরিকল্পনা করেছে রাজ্যে তা নজিরবিহীন। তাই এই তিন জনের মত নাবালক জয়দেব দাসেরও তারা যাবজ্জীবন সাজার দাবী জানাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 − fourteen =