রাজেন্দ্র নাথ দত্ত, মুর্শিদাবাদঃ- খবরটা কানে আসতেই উদ্যোগী হ’ল কান্দি মহকুমার খড়গ্রাম ব্লক প্রশাসন ও খড়গ্রাম থানার পুলিশ। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের চেষ্টা ও মধ্যস্থতায় বন্ধ হল ১৪ বছর বয়সের নাবালিকার বিয়ে। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমার খড়গ্রাম থানার উত্তর গোপীনাথপুর গ্রামের। নাবালিকা বিয়ে বন্ধের আর্জি জানিয়ে প্রচার শুরু করেছেন।

জানা গিয়েছে, খড়গ্রাম থানার উত্তর গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা গণেশ দাসের মেয়ে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী সোনিয়া দাস। সোনিয়া দাসের বিয়ে হচ্ছিল পুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা অনন্ত দাসের ছেলে আকাশ দাসের সঙ্গে।

খড়গ্রাম ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বলেন, নাবালিকার অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেখা লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে আঠারো বছর বয়স না হলে বিয়ে দেওয়া হবে না এই মর্মে। খড়গ্রাম ব্লক প্রশাসন ও খড়গ্রাম থানার পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও মুর্শিদাবাদ বালিয়া প্রেরণা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ।

মুর্শিদাবাদ বালিয়া প্রেরণা ফাউন্ডেশনের সম্পাদক বলেন, নাবালিকা বিয়ে বন্ধ, মেয়েদের স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফেও প্রচার কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সচেতনতার কাজ শুরু করে দিয়েছেন আমাদের সদস্যরা। ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যে ঠিক নয়, তা নিয়ে লিফলেট ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যেক পরিবারকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বোঝানো ১৮ বছরের নীচে মেয়ের বিয়ে দেওয়া আইন-বিরুদ্ধ। কম বয়সে বিয়ে না করা, পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো জরুরি। অনেক গ্রামবাসী এখন সচেতন হয়েছেন। কন্যাশ্রী প্রকল্পের জন্যও মানুষকে বোঝানো সহজ হচ্ছে। প্রশাসন ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে আরও সচেতনতা প্রচার করতে চাই আমাদের সংগঠনের তরফ থেকে।