সংবাদদাতা, বসিরহাটঃ- শ্মশানে ফেরত এক বৃদ্ধার দেহ শেষ পর্যন্ত বাড়িতে ফিরিয়ে এনে কবরস্থ করলেন প্রাক্তন এক শিক্ষক। করোনায় মৃত এই দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ শ্মশানে বৃদ্ধার সৎকারে বাধা দেন। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতিও হয়। সৎকারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার পর শিক্ষিক দেহটি বাড়ি চত্ত্বরে কবরস্থ করেন। মঙ্গলবার এই ঘটনাটি ঘটেছে হিঙ্গলগঞ্জের উত্তর মামুদপুর গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,হিঙ্গলগঞ্জ উত্তর মামুদপুর গ্রামে বাড়ি ওই শিক্ষকের বাড়িতে দীর্ঘ বছর হচ্ছে পরিচারিকার কাজ করতেন বৃদ্ধা। বার্ধক্য জনিত কারনে গত কয়েকদিন হচ্ছে বৃদ্ধা ঠিকঠাক খেতে পারছিলেন না। তা দেখে সোমবার দুপুরে তাকে স্থা‌নীয় ন’নম্বর সান্ডেলেরবিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তিনি মারা যান।

এ দিন সকালে শিক্ষকের ছেলে এবং পরিচিতরা প্লাস্টিকে বাঁধা মৃতদেহ স্থানীয় বোলতলা শ্মশানে নিয়ে যান সৎকারের উদ্দেশ্যে। সেখানে তখন নদী বাঁধের কাজ চলছিল। বাঁধের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেহ সৎকার করা যাবে না বলা হয়। তখন দেহ হিঙ্গলগঞ্জ শ্মশানে আনা হলে প্লাস্টিকে মোড়া থাকায় আশ পাশের সকলের সন্দেহ হয় যে, বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে করোনায়। তার ওই শ্মশানে করোনায় মৃত মানুষের দেহ পোড়ানো যাবে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শেষে ধাক্কাধাক্কি হয়।

বৃদ্ধার মৃত্যু পর হাসপাতাল থেকে হার্ড অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে বলে দেওয়া শংসাপত্র দেখালেও কেউ তা মানতে চায় না। তখন ওই শিক্ষক ঠিক করেন, দুটো শ্মশান ফেরত বৃদ্ধার দেহ নিজের বাড়ির পাশে সমাধিস্থ করবেন। সেই মত বৃদ্ধাকে এ দিন শিক্ষকের বাড়ির পাশে সমাধি দেওয়া হয়। ওই শিক্ষক বলেন, আপাতত সমাধিস্থল নেট দিয়ে ঘিরে রাখা আছে। পরে বাঁধিয়ে দেওয়া হবে।

তবে দুঃখ একটাই যে, নব্বই উর্দ্ধ এক বৃদ্ধার দেহ শ্মশানে নিয়ে গিয়েও পোড়ানো সম্ভব হল না। তাঁর ছেলে বলেন, আমাদের দেখানো হাসপাতালের সংসাপত্র কেউ মানতে রাজি হল না বলে চিতা সাজিয়েও পোড়ানো সম্ভব হল না। দেহ বাড়ি ফিরিয়ে এনে গ্রামের সকলকে ডেকে বাবা নিজের জমিতে বৃদ্ধার কবরস্থ করার ব্যবস্থা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × four =