অলোক আচার্য, নিউ বারাকপুরঃ- করোনা সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের ধাচেই রাজ্য জুড়ে চলছে কড়া আত্মশাসন। কড়া বিধিনিষেধ। বন্ধ কলকারখানা, ট্রেন বাস। মানুষ গৃহবন্দী। অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। অশনিসঙ্কেত। কর্মহীন প্রান্তিক দীন মজুরী খেটে খাওয়া মানুষের ঘরে অর্থ সংকট। এই সঙ্কটকালে দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিল নিউ বারাকপুর সাজিরহাট সোদপুর রোডে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক- অধ্যাপিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্র সংসদ সদস্য রা। মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল এই করোনা অতিমারি মোকাবিলায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে খাদ্যসামগ্রী বন্টন করে। মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক অধ্যাপিকা শিক্ষাকর্মী দের আর্থিক আনুকুল্যে এবং ছাত্র সংসদের সহযোগিতায় ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয় নিরন্ন মানুষদের।

সোমবার সকালে মহাবিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে নিউ বারাকপুর ও পার্শ্ববর্তী বিলকান্দা ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রান্তিক খেটে খাওয়া মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিলেন কলেজের অধ্যাপক অধ্যাপিকা শিক্ষাকর্মী ও ছাত্র সংসদের সদস্যরা। কর্মহীন প্রান্তিক মানুষেরা খাদ্যসামগ্রী পেয়ে কিছুটা হলেও মুখে হাসি ফোঁটাতে পেরে গর্বিত ও আনন্দিত হলেন কলেজের অধ্যক্ষ থেকে উপস্থিত অধ্যাপক অধ্যাপিকা ও শিক্ষাকর্মীরা।

মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্লান দাশগুপ্ত জানান, করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের মধ্যে ক্রমশ বাড়ছে কাজ হারানো মানুষের হাহাকার। অপরদিকে বিপজ্জনক ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর অশনিসঙ্কেত। কলকারখানা ও গণপরিবহন বন্ধ। কর্মহীন প্রান্তিক দীন মজুরী খেটে খাওয়া মানুষের চরম দুর্দশার ও দুর্ভোগ। সেই সব খেটে খাওয়া রাজমিস্ত্রি জোগালি রিকশা ও ভ্যান চালক পরিচারিকাদের আয়াদের মতো ৭৫ জন নিরন্ন মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী বন্টন করা হয় এদিন প্রায় ১৭ রকমের খাবার (ডাল, আলু, পেয়াজ, চিনি, আটা, সোয়াবিন, ডিম, সরষের তৈল, হলুদ, পাতিলেবু, মাক্স, সাবান, মোমবাতি, প্যাকেট দুধ, বিস্কুট, লবন, ডালিয়া)। এই সব প্রান্তিক মানুষের হাতে খাবারের কুপন আগেই পৌছে দেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে সকলেই মাস্ক পরে হাত স্যানিটাইজার করে সামগ্রী গ্রহণ করেন ।

আগামী মঙ্গলবার ও ৭৫ জনকে খাদ্যসামগ্রী বন্টন করা হবে বলে জানান কলেজ কতৃপক্ষ। উপস্থিত ছিলেন নিউ বারাকপুর পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য প্রবীর সাহা, স্হানীয কোঅর্ডিনেটর মনোজ কুমার সরকার, ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুমন দে সহ মহা বিদ্যালয়ের অধ্যাপক নীথর রঞ্জন মধু, দেবায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রজতেশ চক্রবর্তী, দিব্যেন্দু দত্ত, অধ্যাপিকা টিঙ্কি আচার্য।