সুজয় মন্ডল, বসিরহাট :-  হাসনাবাদ থানার চকপাটলি পঞ্চায়েতের বেনা গ্রামের এক দুঃস্থ পরিবারের মেয়ে ওই নাবালিক স্থানীয় মহিষ পুকুর হাই স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতে হয় ওই ছাত্রীর বাবাকে। কিন্তু দারিদ্রতার মধ্যেই হাসনাবাদেরই রামেশ্বরপুর এলাকায় মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছিল বৃহস্পতিবার। সেই মতো সকাল থেকেই বিয়ের আনন্দে মেতে উঠেছিলেন পরিবারের সকলে। বিবাহ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির পাশাপাশি সকাল থেকেই চলছিল মধ্যাহ্নভোজের প্রস্তুতি। যখন বর আসার অপেক্ষায় বিয়ে বাড়ির সকলে হাজির তখনই বিয়ে বাড়িতে হাজির হন হাসনাবাদ বিডিও অফিসের কন্যাশ্রী দফতরের আধিকারিকরা। নাবালিকা বিয়ের খবর পেয়ে তড়িঘড়ি বিয়ে আটকাতে ঘটনাস্থলে আসেন হাসনাবাদ বিডিও অফিসের কন্যাশ্রী দপ্তরের ডাটা ম্যানেজার প্রণব মুখার্জি। নাবালিকা বিয়ের খবর পেয়ে প্রথমেই স্থানীয় মহিষ পুকুর হাই স্কুলে গিয়ে স্কুল শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তারপরে শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে বিয়ে বন্ধের অনুরোধ জানানো হয় ওই নাবালিকার।

নাবালিকা বিয়ে বন্ধের বিষয়ে কথা বললে বিডিও অফিসের আধিকারিক প্রণব মুখার্জি বলেন, ” নাবালিকা বিয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে স্কুল শিক্ষকদের সহযোগিতায় বিয়ে বন্ধ রাখতে মেয়েটির পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করি। কন্যাশ্রী ও রুপশ্রী এই ধরনের সরকারি প্রকল্পের বিষয়ে তাদের সামনে তুলে ধরলে শেষমেশ বিয়ে বন্ধ রাখতে সম্মত হন পরিবারের লোকেরা”। শেষ পর্যন্ত সরকারি আধিকারিকদের কাছে মুচলেকা দিয়ে নাবালিকা মেয়ের বিয়ে বন্ধ রাখার সম্মতি জানান মেয়েটির বাবা।