কচুয়া লোকনাথ মন্দিরের ঘটনায় সরেজমিন খতিয়ে দেখতে রাজ্য পুলিশের আইজি ও ডিজি সহ উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা

0
Advertisement

সুজয় মন্ডল, বসিরহাট :- বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় কচুয়া লোকনাথ মন্দিরের জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই কচুয়া লোকনাথ মন্দিরে হাজির হন দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীদের চাপে রাত দুটো নাগাদ ঘটে দুর্ঘটনা। মন্দিরে ঢোকার মুখে বিপুল দর্শনার্থীর চাপে ভেঙে পড়ে রাস্তার ধারের তৈরি অস্থায়ী দোকান। দোকান ভেঙে কয়েকশো দর্শনার্থী পড়ে যান পুকুরের জলে। তখনই দর্শনার্থীদের চাপ গিয়ে পড়ে উল্টোদিকের পাঁচিলে। প্রবল চাপের মধ্যে পাচিল ভেঙ্গে চাপা পড়েন দর্শনার্থীরা। একের পর এক দুর্ঘটনার মধ্যেই ছুটতে গিয়ে পড়ে গিয়ে পদপিষ্ট হন দর্শনার্থীদের অনেকেই। মুহুর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মন্দির চত্বরে। তৎক্ষণাৎ পুকুরের জল থেকে ও ভিড়ে আটকে পড়া দর্শনার্থীদের উদ্ধারের কাজে হাত লাগান স্থানীয় বাসিন্দারা ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এর কর্মীরা। তড়িঘড়ি আক্রান্তদের আনা হয় মন্দির কমিটির স্বাস্থ্য শিবিরে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সকলকে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বসিরহাট জেলা হাসপাতাল, ধান্যকুড়িয়া প্রাথমিক হাসপাতাল ও বারাসাত হাসপাতালে।

বৃহস্পতিবার রাতে দুর্ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হয় বসিরহাট জেলা প্রশাসন। লোকনাথ মন্দিরের দুর্ঘটনার বিষয়ে খবর নিতে শুক্রবার মন্দিরে আসেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ঘটনাস্থলে এসে মূলত মন্দির চত্বরের পরিকাঠামোগত ত্রুটির দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন তিনি। ঘটনার বিষয়ে সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শুক্রবার মন্দির চত্বরে উপস্থিত হন রাজ্য পুলিশের আইজি ও ডিজি সহ উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। এদিন ঘটনাস্থলে এসে বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে ও দুইজন গুরুতর জখম সহ আরো বেশ কিছু দর্শনার্থী আক্রান্ত বলে জানান রাজ্য পুলিশের ডিজি।
কচুয়া লোকনাথ মন্দিরে দুর্ঘটনায় সরকারিভাবে তিনজনের মৃত্যুর কথা পুলিশের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হলেও বেসরকারিভাবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। এরপর শনিবার আরজিকর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় এক যুবকের ও ভিড়ের চাপে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় আকাশ পাল (১৮) নামে আরো এক যুবকের। সব মিলিয়ে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় পুলিশের দিকেই গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। অভিযোগ যে পরিমাণে দর্শনার্থীর ভিড় হয়েছিল বৃহস্পতিবার রাতে সেই ভিড় সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ ছিল না এলাকায়। মন্দিরের মলদ্বারে দর্শনার্থীদের চাপ বাড়লেও মন্দিরে ঢোকার সময় টাকি রাস্তার মোড়ে ভিড় সামলানোর কোন পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি পুলিশের পক্ষ থেকে। মৃত্যুর খবর পেয়ে শুক্রবার বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুর নেতৃত্বে একটি বিজেপির প্রতিনিধি দল আসেন ঘটনাস্থলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × 4 =