কলমের দুনিয়া, বারাসাত :- এলাকা দখল ও ভেড়ির টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার শাসনের খামার-নওবাদ গ্রাম। সংঘর্ষ চলাকালীন ব‍্যাপক বোমাবাজি হয় এলাকায়! চলে গুলিও। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এসে আক্রান্ত হতে হয় পুলিশকে। পুলিশের একটি গাড়িতে ব‍্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ার‌ও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।এরপর, শাসন থানা থেকে বিশাল পুলিশবাহিনী ছুটে আসে ঘটনাস্থানে।দু-পক্ষকে হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে! কিন্তু, তাঁদের সামনেই আবারও সংঘর্ষ জড়ায় তৃণমূলের বিবাদমান দুই গোষ্ঠী।এরপর,লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সমর্থ হয় পুলিশ! যদিও,এলাকায় বোমাবাজি ও গুলি চালানোর ঘটনায় পুলিশের সামনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। শুরু হয় বিক্ষোভ‌ও।

এরপর,ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ উঠে যায়। সূত্র মারফত জানা গেছে, শাসনের দুই তৃনমূল নেতা মতিয়ার সাপুই ও সফিকুল ইসলামের বিবাদ দীর্ঘদিনের!মূলত এলাকা দখল ও ভেড়ির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়েই গন্ডগোল তাঁদের।মতিয়ার সাপুই হাড়োয়ার বিধায়ক হাজি নুরুল ইসলামের অনুগামী!সফিকুল আবার দেগঙ্গার বিধায়ক রহিমা মন্ডলের কাছের লোক হিসাবে পরিচিত।গতকাল রাতে ওই দুই তৃনমূল নেতার অনুগামীদের মধ্যে এই নিয়ে প্রথমে সংঘর্ষ বাঁধে।তারপর‌ই, পড়তে থাকে একের পর এক বোমা! চলে গুলিও! মুহুর্মুহু বোমাবাজিতে কেঁপে ওঠে শাসনের খামার-ন‌ওবাদ গ্রাম।অভিযোগ,রাতভর দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বোমাবাজি চলে! সফিকুলের অনুগামী স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রাবেয়া বিবির অভিযোগ,”জেলা পরিষদ সদস্য মতিয়ার সাপুই পুরনো লোকদের বাদ দিয়ে কমিটিতে নতুনদের প্রাধান্য দিচ্ছে।এই নিয়ে রাতে তাঁর সঙ্গে দলের পুরনো কয়েকজনের বচসা,হাতিহাতি হয়।এরপর‌ই,মতিয়ারের অনুগামী মশিউরের নেতৃত্বে তৃনমূল কর্মীরা গ্রামে ঢুকে ব‍্যাপক বোমাবাজি করে।পুলিশ আসলে তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করেও বোমা ছোঁড়া হয়।ব‍্যাপক ভাঙচুর করে পুলিশের গাড়িতেও।সিপিএম থেকে আসা লোকজনকে আমরা কখন‌ই কমিটিতে মেনে নেব না”। যদিও, অপরপক্ষ পাল্টা সফিকুলের লোকজনের বিরুদ্ধে হামলা,বোমাবাজির অভিযোগ করেছে। প্রসঙ্গত,কয়েকদিন আগে হাড়োয়ার বিধায়ক হাজি নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে এবিষয়ে অভিযোগ‌ও করেন তৃণমূল নেতা সফিকুলের লোকজন।তা নিয়ে সফিকুলের অনুগামী তৃনমূল নেতা ও কর্মীদের ওপর আক্রোশ থেকেই এই ঘটনা কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে,ঘটনার জেরে আজ সকাল থেকেই শাসনের খামার-ন‌ওবাদ গ্রামে থমথমে পরিবেশ।রাস্তাঘাট প্রায় শুনশান বলা যায়! পুলিশ গ্রামের বিভিন্ন রাস্তায় টহল দিতে শুরু করেছে। পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাসন থানা। বাকিদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এদিকে শাসনের ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মন্তব্য, “আমাদের দলের কেউ যুক্ত নয়,বিজেপি এখন ভেড়ি দখল করার জন্য কংগ্রেস,সিপিএম কে নিয়ে তৃনমূল কংগ্রেসের নামে বদনাম করছে।”