চঞ্চল মিস্তিরী, বাংলাদেশ প্রতিনিধি :-
ঢাকার ধামরাইয়ে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে চার দিন ধরে অবস্থান করছে এক কলেজছাত্রী। এ নিয়ে এলাকায় কয়েক দফা সালিস বৈঠক করেও কোনো সুরাহা হয়নি
বরং একটি চক্র এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী ও কলেজছাত্রী সোনিয়ার (ছদ্মনাম) কাছ থেকে জানা গেছে, কুশুরা ইউনিয়নের গোলাইল গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে সুমন হোসাইন পার্শ্ববর্তী বান্নল গ্রামের সোনিয়া (ছদ্মনাম) নামের এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াত প্রায় দুই বছর আগে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে সুমন হোসাইনের চাকরি হয়। এরপরও চলতে থাকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে বলে জানান বিয়ের দাবিতে অবস্থানরত সোনিয়া। গত কিছুদিন আগে ছুটি নিয়ে বাড়িতে যায় সুমন। গত সোমবার সোনিয়ার সঙ্গে তার বাড়ির পাশে দেখাও করে সুমন।

ওই দিন সন্ধ্যায় বিয়ের দাবিতে সুমনের বাড়িতে গিয়ে ওঠে সোনিয়া। এরপর সুমন বাড়ি থেকে গাঢাকা দিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে এ নিয়ে স্থানীয় তোফাজ্জল মাস্টারের বাড়িতে কয়েক শ লোকের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ সালিস বৈঠকে বসে। সেখানে সুমনকে দুই লাখ টাকা যৌতুক দেওযার কথাও উত্থাপন করা হয়। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সোনিয়া ওই বাড়িতে অবস্থান করছে বিয়ের দাবিতে। স্থানীয় মাতাব্বর রেজাউল হক বলেন, এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আবারও বসা হবে।
সোনিয়া জানায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সুমন আমার সব কেড়ে নিয়েছে। অথচ সে এখন আমাকে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। ও আমাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার আর কোনো বিকল্প নেই। সোনিয়ার বাবা বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে প্রতারণা করছে সুমন। আমি এখন অসহায়। মান-ইজ্জত সবই গেছে।
সুমনের মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার বাবা আবদুল লতিফ বলেন, মেয়েটির সঙ্গে সুমনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা ষড়যন্ত্র করে সুমনকে ফাঁসানোর জন্য স্থানীয় কয়েকজন জোট বেঁধেছে। তবে আবদুল লতিফ স্বীকার করেন, তার ছেলে সুমন মেয়েটিকে দুই বছর আগে প্রাইভেট পড়াত। একপর্যায়ে তিনি বলেন, সুমন যখন ছুটিতে বাড়ি আসত তখন তাকে আমি চোখে চোখে রাখতাম যেন কোনো ঝামেলায় না পড়ে।
সুমনের দুলাভাই সুকুম উদ্দিন বলেন, একটি পক্ষ আমার শ্বশুরের কাছ থেকে মঙ্গলবার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নিয়েছে। আমাদের কাছে তারা টাকাও দাবি করছে। না দেওয়াতে তারা বিষয়টি আরো ঘোলা করছে।