সমীর দাসঃ- লোকসভায় ১৮টি আসন পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছিল বঙ্গ বিজেপি। এমনকি ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী বলেই দাবি করছিলেন দলের নেতারা। তবে তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের ফলাফলের পর আনন্দ-উচ্ছ্বাস যে ফিকে পরে গেছে সেটাই স্বাভাবিক। উপনির্বাচনের ফলাফলের আগেই মুকুল রায় যে দাবি হাঁকিয়ে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে তাও শুধু ফাঁকা আওয়াজ প্রমাণিত হলো। এদিকে প্রেস্টিজ ফাইটে হেরে প্রশ্নের মুখে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, আবার দুঁদে রাজনীতিক মুকুল রায়ও পর্যালোচনা’র কথা বলে অস্বস্তি ঢেকেছেন।

বঙ্গ বিজেপির এরকম পরিস্থিতিতে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি তথা নেতাজি পরিবারের সদস্য চন্দ্রকুমার বসু এমন মন্তব্য করে বসলেন যাতে বঙ্গ বিজেপি কেন গোটা বিজেপি নেতৃত্বের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি টুইট করে বলেন, শুধুমাত্র ভোটব্যাংকের কথা না ভেবে রাজ্যের মানুষের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলির বাংলার প্রতি আগ্রহ দেখানো উচিত। বিশেষত রাজ্য বিজেপির উচিত গঠনতন্ত্রে শুদ্ধিকরণের মাধ্যমে বাংলার জন্য রাজনৈতিক কৌশলে জোর দেওয়া। চন্দ্রশেখর বসু মনে করেন বাংলার মানুষ রাজনৈতিক ভাবে সচেতন আর তাই ভোটব্যাংকের রাজনীতি তাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না। তার সাথে তিনি এও মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ভূমিতে গোটা দেশের রণকৌশল চলতে পারে না। দলের সহ সভাপতির এমন পর্যবেক্ষণে কার্যতই অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপির নেতারা।

উপনির্বাচনের ফলাফলের আগে পর্যন্ত বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বের সকলেই ৩-০ আসনে তৃণমূল কে হারানোর দাবি করেছিল ঠিকই কিন্তু সেই ফলাফল উল্টে গিয়ে বঙ্গ বিজেপিকে যথেষ্টই অস্বস্তিতে ফেলেছে তা বলার অবকাশ রাখে না। যদিও বিজেপির এই হার -এর পিছনে বিজেপির বিভিন্ন অযৌক্তিক এবং অনৈতিক কর্মকান্ডের’ই ফল এমনটাই মনে করছেন গোটা রাজনৈতিক মহল। বলাবাহুল্য লোকসভা নির্বাচনের পর যে অহংকারী মনোভাব নিয়ে ২১-এর বিধাসভায় সরকার পরিবর্তনের দাবি করছিলো তাতে বেশ কিছুটা রাশ টানলো এই উপ নির্বাচনের ফলাফল, শুধু তাই নয় আর মাত্র কয়েক মাস পরই কলকাতা সহ শতাধিক পুরসভার ভোট, আর তাতেও উপনির্বাচনের সমান প্রভাব পড়বে এমনটাই আশা রাখছেন তৃণমূল কর্তৃপক্ষ।