অলোক আচার্য, বিরাটীঃ- বুধবার সন্ধ্যায় উত্তর দমদম পুরসভার ১৯নং ওয়ার্ডের উত্তর বাদড়া এলাকায় ভারতরত্ন বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের আবক্ষ মর্মর মূর্তি উন্মোচন করলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সৌগত রায়, উত্তর দমদম পুরসভার পুরপ্রধান বিধান বিশ্বাস, উপ পুরপ্রধান লোপামুদ্রা দত্ত চৌধুরী, পুরপারিষদের সদস্য দেবাশিষ ঘোষ, সৌমেন দত্ত, কাউন্সিলার রাজর্ষি বসু, রীতা অধিকারী, প্রদ্যুৎ বিশ্বাস, পিঙ্কু ভৌমিক, প্রশান্ত দাস সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুরসভার ১৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শিক্ষাবিদ সুবোধ চক্রবর্তী। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন সংগীত শিল্পী তৃষা ও প্রত্যুষা ভট্টাচার্য।

মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, খুব ভালো কাজ করছেন পুরপিতা সুবোধ চক্রবর্তী। সংবিধান প্রণেতা বাবাসাহেব বি আর আম্বেদকর এর একটি মূর্তি স্থাপন করলেন এলাকায়। পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষেরা জন্ম ও মৃত্যু দিনে তাকে অনুসরণ করে ফুল ও মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। আম্বেদকরের জীবনবৃত্তান্ত যদি আমরা দেখি, তাহলে দেখতে পাবো বহু ঘাত প্রতিঘাত অতিক্রম করে তিনি সারাজীবন এগিয়ে গেছেন। ভারতবর্ষে পিছিয়ে পড়া বলতে সেসময় যা বোঝাতো সেসব অতিক্রম করে বহু মানসিক যন্ত্রণা সহ‍্য করে তিনি এ জায়গায় পৌঁছেছিলেন। তিন বছর, ১৯৪৬-১৯৪৯ ধরে চলা গণপরিষদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ড. বি আর আম্বেদকর। ১৯৪৯ এর ২৬শে নভেম্বর যে সংবিধান আমরা পেয়েছিলাম, যাতে মুখবন্ধে বা preamble এ লেখা আছে, be the people of India. Give unto ourselves this 26th November, 1949.

তিনি আরো বলেন, আজ অবধি ১০০ এর উপরে সংবিধান সংশোধনী হয়েছে, কিন্তু মূল সংবিধানের যে কাঠামো তাকে অতিক্রম করে কিছুই করা যায় না। সংবিধানের মুখবন্ধে লেখা আছে যে আমাদের মধ‍্যে জাতি, বর্ণ , ধর্মের কোনো বিভেদ থাকবে না। তাই এখন যদি কেউ হিন্দুরাষ্ট্রের দাবি তোলে, তা কিছুতেই চলবে না। সুবোধ চক্রবর্তী একজন ব্রাহ্মণ মানুষ, তার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হল আম্বেদকরের মূর্তি। এটাই ভারতবর্ষ। সংবিধানকে কেউ যদি সবথেকে উচ্চ স্থানে রেখে থাকেন, তবে তা বাংলার মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ‍্যেপাধ‍্যায়।

ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের ১৩১ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এলাকায় একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ওয়ার্ড কমিটির সদস্য সুমন চক্রবর্তী।