সংবাদদাতা, বসিরহাটঃ- উচ্চ মাধ্যমিকে পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীদের পথ অবরোধ। করোনা কালে লক ডাউনের কারনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা না হওয়া সত্ত্বেও কোনো স্কুলে পঞ্চাশের উপর ফেল, কোনো স্কুলে নম্বর কম আবার পরীক্ষা না দিয়েও বেশি নম্বর নিয়ে পাশ করার মতো নানা অভিযোগের ভিত্তিতে বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন এলাকাতে বিক্ষোভ দেখালো উচ্চ মাধ্যমিকে ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকেরা।

শুক্রবার টাকি এবং বাদুড়িয়ার স্কুলে দফায় দফায় বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধের মধ্যে দিয়ে সন্ধ্যা নাগাদ পুলিশ এবং শিক্ষক, শিক্ষিকাদের প্রতিশ্রুতিতে শান্ত হয় বিক্ষোভকারীরা।

এ বিষয়ে টাকি ষষ্টিবর লালমাধব উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মণিষা মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের স্কুল থেকে ২৩৯ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিয়েছিল। তার মধ্যে ৬৬ জন ফেল করায় মেয়েরা কান্নায় ভেঙে পড়ে রাস্তা অবরোধ করে ক্ষোভ উগরে দেয়। ঘটনাটি পর্ষদকে জানানো হলে তারা বলেন, পর্ষদের গাইড লাইন মেনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্কুল, পুলিশ ও পড়ুয়া সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ মাধ্যমিকের ফল হাতে পেয়ে টাকি ষষ্টিবর লালমাধব উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা রাগে ক্ষোভে স্থানীয় থুবা মোড়ে গিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। সেখানে টানা ২ ঘন্টা ধরে চলে অবরোধ। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলেও বিক্ষোভ প্রশমন হয়নি। ছাত্রীদের দাবি,আমাদের পাশ করাতেই হবে। নইলে অবরোধ বিক্ষোভ চলতে থাকবে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রিয়া হালদার, বনশ্রী মল্লিক বলেন, আমরা এমন পড়াশুনা করেনি যাতে ৬৬ জন ফেল করতে হবে।অনেক কম নম্বর পাওয়া ছাত্রীর মার্কসিটে দেখা যাচ্ছে সে আশি শতাংশ নম্বর পেয়েছে। আবার ভালো ছাত্রীর খেত্রে লক্ষ্য করা যাচ্ছে চল্লিশ-পঞ্চাশ শতাংশ নম্বর পেতে। এ জন্য স্কুল নাকি পর্ষদ দায়ী বলতে পারবো না। তবে এটা ঠিক উল্টো পাল্টা নম্বর দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ কে নষ্ট করা চলবে না। ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষিকার কাছে পর্ষদকে জানিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করে।

বাদুড়িয়ার দুটি স্কুলের পড়ুয়ারা নম্বর কম দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তাদের অভিভাবকেরা স্কুলে গিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখায়। কম নম্বর পাওয়ার জন্য শিক্ষিক, শিক্ষিকা এবং পর্ষদ দোষী বলে সোচ্চার হয়। তাদের কথায়, যে ভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে তাতে কম পড়াশুনা করে বেশি এবং বেশি পড়াশুনা করে কম নম্বর জুটেছে। তা ছাড়া নম্বর দেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও নানা গরমিল রয়েছে।

এক অভিভাবকের কথায়, যেখানে করোনা কালে সকলকে পাশ করিয়ে দেওয়ার কথা বল সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাতে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নষ্টের পক্ষে এক ধাপ এগিয়ে গেল। এই নম্বর নিয়ে তো কোন কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে না। এক শিক্ষকের কথায়, আসলে নম্বর দেওয়ার পদ্ধতি, যোগে ভুল এবং কোনো কোনো স্কুল লিখিত পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার কারনে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।