অখিল মাহাতো, পুরুলিয়া :- পুরুলিয়া থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং বাঁকুড়া থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত মানবাজার মহকুমা শহর। একসময় ১৮৩৩-১৮৩৮ সালে যখন আজকের পুরুলিয়া ছিল তৎকালীন বিহারের অন্তর্গত তখন মানভূম জেলার সদর শহর ছিল এই মানবাজার। পরে অনেক লড়াই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৫৬ সালের পহেলা নভেম্বর মানভূমের কিয়দংশ নিয়ে গঠিত হয় পুরুলিয়া জেলা।

আজও পুরুলিয়া জেলার নিজস্ব কৃষ্টি, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মানবিক, সুশৃংখল শান্ত সৌভ্রাতৃত্ব পূর্ণ বাতাবরণের প্রশ্নে মানবাজার একটি আদরণীয় নাম।

এখানকার রাজবাড়ী গড় পাথর মহড়ার শারদীয়া দূর্গা পূজার ইতিহাস প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো। সুদীর্ঘকাল ধরে আরো অনেকগুলি পূজা হয়ে আসছে। তবে সেই সকল দুর্গাপূজা পারিবারিক এবং গোষ্ঠী বর্গীয়।এখানকার অধিকাংশ মানুষ সুদীর্ঘকাল ধরে একটি বারোয়ারী বা সার্বজনীন দুর্গাপূজা স্বপ্ন দেখছিল প্রায় ২০ বছর আগে থেকেই। অবশেষে ২০০৯ সালে সেই স্বপ্নের পূজা বাস্তবতার স্পর্শ পেল। সে দিক থেকে এবারের পূজাটি একাদশ বড়শির দুর্গাপূজা। মানবাজার প্রিন্স রোডের এই সার্বজনীন দুর্গা পূজারটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এখানকার গ্রাম্য যোগাশ্রমে। আশ্রমের শান্ত শীতল সবুজ ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ এ বছর বছর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। বেড়ে চলেছে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট ভূগোল সীমার মানুষের আবেগ। গ্রামীণ ও শহুরে ভাবধারার এক প্রাণবন্ত মহামিলন এই পূজা।

আজকের সমাজ থেকে যখন একান্নবর্তী পরিবারের ধারণাটাই লুপ্ত হতে বসেছে, তখন শারদোৎসবের দিনগুলিতে প্রায় ২০০টি পরিবারকে এক উঠোনে আনার ব্রত গ্রহণ করেছে এই সার্বজনীন পূজা।

এবার বাজেট প্রায় ১০ লক্ষ। জগৎ ব্যাপি যখন পরিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নে ভারত সহ সকল দেশই চিন্তাগ্রস্থ তখন এই পূজার মূল ভাবনা পরিবেশের সুরক্ষা। আশ্রমের প্রায় ২৫ টি প্রজাতির দুইশতাধিক বৃক্ষের ছায়ায় হোগল পাতা দিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে ৮০ ফুট উচ্চতার এক কাল্পনিক মন্দিরের আদলে প্রাণবন্ত মন্ডপ। প্রায় সপ্তাহ কাল ধরে সাংস্কৃতিক ও লোকসংস্কৃতির অনুষ্ঠানের মেলবন্ধন রচিত হবে। এছাড়া বস্ত্র বিতরণ, গুণীজন সম্মাননা এবং লুপ্তপ্রায় লোকক্রীড়ার আয়োজন তো রয়েছেই।