নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাটঃ- আম্ফান বা উম্ফুন আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই সুন্দরবন এলাকায় আছড়ে পড়তে চলেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে আগামী শনিবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে ওই ঝড় পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যার উপকূলে আছড়ে পরতে পারে। সে কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যে হাড়োয়া, মিনাখাঁ, হাসনাবাদ, সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ সহ বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন ব্লকে থাকা বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের কাজ শুরু হয়েছে। দুর্বল নদী বাঁধের মাটি ফেলার কাজ এবং মহকুমা, ব্লক এবং পঞ্চায়েত পর্যায়ে সব কর্মীদের নিয়ে ভার্চুয়াল মিটিং করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত গত এক বছর আগে এই মে মাসে আম্ফানের মত ঘূর্ণি ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবন লাগোয়া এলাকা। কয়েক বছর আগে আয়লার মত ভয়ঙ্কর ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল সুন্দরবন এলাকার মানুষ। সে কথা মাথায় রেখে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের মোকাবিলায় তৈরি হচ্ছে মহকুমা প্রশাসন। আয়লা, ফণি এবং আম্ফান ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির মত ইয়াসে তেমনটা যাতে না হয় সে জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

জলোচ্ছ্বাসের ফলে যাতে সুন্দরবন এলাকার নদী বাঁধ ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে না পারে সে জন্য বাঁধে মাটি দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আয়লা, আম্ফান থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে যাতে ইয়াস ঘূর্ণিঝড় বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি করতে না পারে, সাধারণ মানুষের যাতে কোনো প্রাণহানি না ঘটে তার জন্য আগাম প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

গতবারে আম্ফান বিধ্বস্ত প্রত্যন্ত এলাকায় বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে প্রায় এক মাস সময় লেগে গিয়েছিল। সেই ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদেরও বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যদি কোন বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে যায় বা খুঁটি ভেঙে যায় সেখানে কি ভাবে দ্রুত পৌঁছানো যাবে তার জন্য বিভিন্ন ধরনের পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। গত আম্ফানে সময় যে সমস্ত বিদ্যালয়গুলোতে ত্রাণ শিবির করা হয়েছিল সেই সব বিদ্যালয়গুলোর পরিকাঠামো ভাল করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে মিনাখাঁ ব্লক উন্নয়ন সমষ্টি আধিকারিক শেখ কামরুল ইসলাম বলেন,‘‘ ইতিমধ্যে সমস্ত পঞ্চায়েতে স্তরের কর্মীদের নিয়ে বেশ কয়েকটি মিটিং করেছি। করোনা স্বাস্থ্যবিধি মাথায় রেখে কি ভাবে বিপদ গ্রস্থ মানুষদের কাছে পৌঁছে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা যায় তা নিয়েও বিশেষ আলোচনা করা হয়েছে।

কৃষকদের ফসল যাতে নষ্ট না হয় সে দিকে লক্ষ্য রেখে কৃষকদের আগাম ফসল তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন ভাবে সাধারণ মানুষদের ইয়াস সম্পর্কে সজাগ করার কাজ শুরু হয়েছে।

এই বিষয়ে হাসনাবাদের বিডিও অফিস সূত্রে খবর পানীয় জলের কোন সংকট যাতে না হয় সেই বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে। যেহেতু করোনা পরিস্থিতি হিঙ্গলগঞ্জ হাসনাবাদ প্রান্তিক এলাকার হসপিটাল থেকে রোগীদের কলকাতা হাসপাতালে স্থানান্তরিত সময় ঝড়ে রাস্তায় গাছ পড়ে এম্বুলেন্সে যাতে না আটকে যায় সেই বিষয়ে নজর রাখতে বলা হয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত গুলি কে।