অভিজিৎ হাজরা, আমতাঃ- হাওড়া জেলার আমতার আঢ্য পাড়ার একটি পুকুর পরিষ্কার করার সময় ১২ কেজি ৬০০ গ্ৰাম ওজনের একটি কচ্ছপ ধরা পড়ে। এই খবর শোনামাত্রই পরিবেশ প্রেমী শৌর্য্যদীপ্ত নষ্কর ও সর্পবিষারদ শুভেন্দু গাঙ্গুলি ও স্থানে উপস্থিত হন। ওনারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই কচ্ছপটিকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। এটা জানা মাত্রই শৌর্য্যদীপ্ত ও শুভেন্দু খবরটা বনদপ্তর এর এক কর্মীকে ফোন করে জানান। বনদপ্তরের কর্মী ঘটনাস্থলে আসেন।এরপর ওই কর্মী, শৌর্য্যদীপ্ত ও শুভেন্দু স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে কচ্ছপটির সম্পর্কে খোঁজ খবর করতে থাকেন। কিন্তু কেউ কোন কিছু না জানানোও ওনারা খোঁজ করতে থাকেন।

ইতিমধ্যে একজন বলেন,কচ্ছপটিকে আমতার বাঁধপাড়ার বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি মহাদেব নিয়ে গেছে। বনদপ্তরের কর্মী, শৌর্য্যদীপ্ত ও শুভেন্দু মহাদেব কে খোঁজার জন্য কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তার মাঝেই মহাদেব ওনাদের দেখতে পেয়ে নিজে থেকেই ওনাদের হাতে কচ্ছপটিকে তুলে দিয়ে বলেন, “এইসব প্রাণীকে মারা ও খাওয়া কখনোই ঠিক নয়। কারণ এই প্রাণীগুলি বর্তমানে আর পরিবেশে সেভাবে দেখা যায় না।”

এই বিষয়ে সর্পবিষারদ শুভেন্দু গাঙ্গুলি বলেন ,” এই কচ্ছপটি হল INDIAN FLAPSHELL TURTLE প্রজাতির। এটা প্রকৃতিতে ভীষণ বিরল।চোরা শিকারিদের জন্য এবং জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের জন্য এই প্রাণীগুলো বিলুপ্তের পর্যায়ে পৌঁছেছে।”

শৌর্য্যদীপ্ত নস্কর, শুভেন্দু গাঙ্গুলী ও বনদপ্তরের কর্মী সমীর বাবু-র সহায়তায় কচ্ছপটিকে বনদপ্তরের হাতে হস্তান্তরিত করা হয়।
শৌর্য্যদীপ্ত বলেন,” আমরা যখনই এই ধরনের খবর পেয়ে থাকি তখনই তা বনদপ্তর বা উপযুক্ত জায়গায় খবর দিয়ে তা উদ্ধার করে থাকি এবং তারপর তাকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × three =