নিজস্ব সংবাদদাতা, আমডাঙ্গা :- আমডাঙা থানার অাদহাটা এলাকায় শ‍্যুট আউটের ঘটনা ঘটল । শুক্রবার রাতেই আমডাঙার আদহাটা মোড়ের ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় একদল দুষ্কৃতী। যদিও গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন স্থানীয় কয়েকজন।স্বাভাবিক ভাবেই শুট অাউটের ঘটনার জেরে আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার সাধারন মানুষ। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিশ্বচাদ ঠাকুর জানিয়েছেন আদহাটায় একটা গন্ডগোলের জেরে শুট অাউটের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ মূল অভিযুক্ত আব্দুল হামিদ ওরফে খোকন নামে এক দুষ্কৃতীকে শুক্রবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেই পুলিশ সুত্রে জানা গেছে। পুরনো কোনও গন্ডগোলের জেরেই এই ঘটনা বলে ধারনা আমডাঙ্গা থানার পুলিশের।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে গত তিনদিন আগে আদহাটা মোড়ে সাদ্দাম হোসেন নামে এক যুবকের উপর হামলা চালায় আব্দুল হামিদ এবং তার দলবল।ছুরি দিয়ে তাঁর পেটে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ আব্দুলের বিরুদ্ধে।এর ফলে জখম হন সাদ্দাম। আমডাঙ্গার গ্রামীন হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন সে।ঘটনার পর আক্রান্তের কাকা ওদুদ আলি আমডাঙা থানায় আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন।পুলিশ জানিয়েছে শুক্রবার রাতে আদহাটা মোড়ের একটি চায়ের দোকানে কয়েকজনের সাথে বসে কথা বলছিলেন ওদুদ আলি।সেই সময় বাইকে করে এসে আব্দুল এবং তার দলবল এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বরাত জোরে রক্ষা পান সকলে।এরপর‌ বাইকে চেপেই রাতের অন্ধকারে গা ঢাকা দেয় হামলাকারীরা।ঘটনার পর‌ই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার লোকজন।রাতে ফের আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে আমডাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।শুট অাউটের পরেই তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। পুলিশ মূল অভিযুক্ত আব্দুল হামিদকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারনা পুরনো কোনও গন্ডগোলের জেরেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে শুক্রবার রাতে শুট অাউটের পিছনে অন‍্য কোন‌ও কারন আছে কিনা,তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে এই ঘটনাতেও রাজনৈতিক রঙ লেগেছে।আমডাঙার ব্লক তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতির্ময় দত্ত আক্রান্ত সাদ্দাম হোসেনকে দলীয় কর্মী বলে দাবি করে বলেন ঘটনার পিছনে সিপিএম ও বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে।শান্ত এলাকাকে ফের অশান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি ঘটনায় জড়িত প্রত‍্যেক দুস্কৃতিকেই গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব।বিজেপি নেতা হেমন্ত সামন্ত বলেন ঘটনার পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বই দায়ী।