বাইজিদ মন্ডল, ডায়মন্ড হারবারঃ- বিগত প্রায় দুই বছর করোনার কারণে বন্ধ ছিল যাত্রাপালা থেকে শুরু করে আরও অন্যান্য সকল কিছু, তার জন্য অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে এই যাত্রা শিল্পীদের। এখন করোনা সংক্রমণ আগের তুলনায় অনেকটা কম তাই যাত্রা শিল্পীদের কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার অনুমতি দেন, কিছু সংখ্যক শিল্পী ও দর্শকদের নিয়ে রাজ্যের পাশাপাশি আবারও শুরু হলো কানন মাইতির রচিত ‘বাবা মায়ের শেষ ঠিকানা’ এই যাত্রা পালা দিয়ে। পাশাপাশি এদিন প্রাক্তন সকল যাত্রা শিল্পীদের সম্মাননা জানানো হয় এবং প্রয়াত বিশিষ্ঠ সঙ্গীত শিল্পী লতা মঙ্গেশকর এর স্মৃতিতে শান্তির কামনায় নিরবতা পালন করা হয়।

রাধামাধম সেবাশ্রম সংঘ ও আশাপুর মহোৎসব কমিটির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় এই অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন সকল যাত্রা শিল্পীরা। এদিন বিশিষ্ট যাত্রা শিল্পী কার্তিক গাঙ্গুলি তিনি সর্বপ্রথম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চিরায়ত সত্য এটাই যে, যাত্রা বা যাত্রাগান যুগে যুগে মানুষকে আনন্দ দিয়েছে। যাত্রার আসরে শোনা যেত বীর পুরুষদের কাহিনি, রাজা-বাদশাহর যুদ্ধের গল্প। লেখাপড়া না-জানা মানুষ যাত্রাগান শুনে অনেক কিছু শিখত বুঝতে পারত। দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত হতো হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয় যাত্রা শিল্পীদের কাছ থেকে আরও জানা যায়
যাত্রাপালার জন্মকথা বড়ই চমকপ্রদ। গবেষকদের মধ্যেই মতভেদ দেখা যায়। যেমন বৈদিক যুগে বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের দেব-দেবীর উৎসব হত। ভক্তরা ঢাকঢোল নিয়ে মিছিল সহকারে নাচতে-নাচতে, গাইতে-গাইতে উৎসবে যোগ দিত। এক জায়গায় এক দেবতার বন্দনা ও লীলাকীর্তন শেষ করে আরেক জায়গায় আরেক দেবতার উৎসবে গান-বাজনার মিছিল নিয়ে যাত্রা শুরু করত।

সূর্যদেবকে উপলক্ষ্য করে সৌরোৎসব, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে কৃষ্ণযাত্রা, জগন্নাথ দেবের উদ্দেশ্যে রথযাত্রা, দোল পূর্ণিমায় দোল যাত্রা এবং মনসামঙ্গলে ভাষান যাত্রা।’ এই যে দেবদেবীদের উৎসবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া। এই ‘যাওয়া’ থেকেই ‘যাত্রা’ কথাটির উৎপত্তি বলে একদল গবেষক মনে করেন। অন্যদল মনে করেন মধ্যযুগে এ দেশে যে পাঁচালী গান প্রচলিত ছিল তা থেকে যাত্রার উদ্ভব।