অলোক আচার্য, নববারাকপুরঃ- মানব সেবা পরম সেবা। এর থেকে বড় কাজ আর কিছু হতে পারে না। পরম তৃপ্তি অনুভব করি। সারা সপ্তাহ জুড়ে সেবা। কোনোদিন স্বাস্থ্য শিবির, কোনো দিন গরীব আদিবাসীগ্রামে কম্বল, খাদ্য -মিষ্টি প্রদান, একদিন রাস্তার ভবঘুরে মানুষদের পুষ্টিকর খাদ্য, শীতবস্ত্র, রোগীদের ফল-মিষ্টি প্রদান, আবার আরেকদিন ফুটপাতবাসী শিশু ও গরীবমানুষগুলোর গায়ে উষ্ণতার পরশ এনে দেওয়া—বছর ভর সেবার পাশাপাশি এই সপ্তাহে সপ্তাহভর এই বিশেষ সেবার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সুপরিচিত সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান বিশ্ব সেবাশ্রম সঙ্ঘ।

কলকাতার বিমানবন্দর লাগোয়া নিউ ব্যারাকপুরের বিশ্ব সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা পূজনীয় শ্রীসমীরেশ্বর ব্রহ্মচারী মহারাজ। শৈশব থেকেই আর্তমানুষের পাশের দাঁড়ানোই তাঁর ব্রত। তাই এবছর ৬ ডিসেম্বর শ্রীসমীরেশ্বর মহারাজের ৪৯তম শুভ আবির্ভাব তিথি উৎসব সপ্তাহভর বিভিন্নস্তরের গরীব মানুষদের মুখে হাসি ফুটিয়ে পালন করা হবে বলে জানালেন বিশ্ব সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীসমীরেশ্বর ব্রহ্মচারী মহারাজ।

৪৯ তম আর্বিভাব তিথি উৎসব উপলক্ষে বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর এলাকায় অসহায় দুঃস্থ মানুষদের মুখে একটু হাসি ফোঁটাতে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে শীতবস্ত্র প্রীতি উপহার ও শুকনো খাবার প্যাকেট তুলে দেওয়া হয় এদিন। উপস্থিত ছিলেন পটাশপুর বিধানসভা বিধায়ক প্রতিনিধি হরিপদ দাস মহাপাত্র, বিশ্বনাথ পুর গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য অম্লান নায়েক, সমাজসেবী গৌরাঙ্গ নায়েক সহ বিশিষ্ট জনেরা। আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সেবা সপ্তাহ।

গত ২৮ নভেম্বর সঙ্ঘ প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করে বিনাব্যয়ে ২৪০ জন মানুষের ব্লাড সুগার, ইসিজি, হিমোগ্লোবিন, ক্লোরেষ্টেরল সহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয় এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষাও করা হয়। বিশ্ব সেবাশ্রম সঙ্ঘের ৪৯ তম শুভ আর্বিভাব তিথি উৎসব উপলক্ষে বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরে জেলার পটাশপুর থানার তাপিন্দা, বিশ্বনাথপুর, পুষা নৈপুর আদিবাসী পল্লীতে শ্রীসমীরেশ্বর মহারাজ নিজের হাতে শতাধিক আদিবাসী শিশু এবং বয়স্কদের হাতে কম্বল, শীতবস্ত্র এবং খাদ্যসামগ্রীর বাক্স তুলে দেন। স্বভাবতই খুশি ও আনন্দিত এলাকার অসহায় ছোট শিশু কিশোর কিশোরী থেকে মা বোনেরা ভাইরা।