আগামী ৭ দিনের মধ্যে নিখোঁজ বিজেপি কর্মীর সন্ধান বের করতে না পারলে সাতদিন পরে ন্যাজাট থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সায়ন্তন বসু

0
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা, ন্যাজাট :- গত জুন মাসে রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি থানার ভাঙ্গি পাড়ায়। সেই ঘটনায় এক তৃণমূল কর্মী কাইয়ুম মোল্লা ছাড়াও মারা গিয়েছিলেন বিজেপির প্রদীপ মণ্ডল ও সুকান্ত মন্ডল নামে দুজন কর্মী। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ দেবদাস মন্ডল নামে আরও এক বিজেপি কর্মী। ঘটনার পরে প্রায় একমাস কেটে গেলেও নিখোঁজ বিজেপি কর্মীর কোন সন্ধান পুলিশ উদ্ধার করতে না পারায় ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার ন্যাজাট থানা সংলগ্ন রাইস মিল মাঠে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বসিরহাট জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে। এদিনের সভায় থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একের পর এক পুলিশকে নিশানা করেন বিজেপি নেতারা। ঘটনার পরে দীর্ঘ দিন কেটে গেলেও মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার কিংবা নিখোঁজ বিজেপি নেতার সন্ধান দিতে না পারায় পুলিশ কে নিশানা করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, পশ্চিমবাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে পুলিশকে পায়ের জুতো চাটাবেন বলে মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে একই বিষয় নিয়ে বলতে গিয়ে পুলিশ বর্তমান রাজ্য সরকার তৃণমূল নেতাদের দালালি করছে বলে উল্লেখ করে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে পুলিশকে সংবিধান মেনে কাজ করানো হবে বলে উল্লেখ করেন আর এক সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। আগামী ৭ দিনের মধ্যে নিখোঁজ বিজেপি কর্মীর সন্ধান বের করতে না পারলে সাতদিন পরে ন্যাজাট থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সায়ন্তন বসু। সন্দেশখালির বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার ঘটনার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের যোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করে সিবিআই তদন্তের দাবি তোলেন বিজেপি নেতারা। না হলে এনআইএ তদন্তের আশ্বাস দেন সায়ন্তন বসু। এদিনের প্রতিবাদ সভা থেকে আগামী দিনে বিজেপি সারা দেশ জুড়ে ৮ ই জুন সন্দেশখালির শহীদ দিবস পালন করবে বলে কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবার বিজেপির প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মিনাখাঁ বামুনপুকুর এলাকায় বিজেপি কর্মীদের গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে দলের পক্ষ থেকে। জানা যায় হাড়োয়ার শালীপুর পঞ্চায়েতের খলিসাদি গ্রাম থেকে ১০৭ গাড়িতে করে আনুমানিক ২৫ জন বিজেপি কর্মী মিটিং এর উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় মিনাখাঁ থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে তাদের গাড়িতে হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় তাদের। হামলার পিছনে তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে বিজেপির পক্ষ থেকে। হামলায় গুরুতর জখম অবস্থায় রাখাল সরদার ও শান্তনু মন্ডলকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বাকি বিজেপি কর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। এই বিষয় নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার অবজারভার অনাল বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা হলে উনি বলেন সারা রাজ্যের আইন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে সেই জন্য এই রকম ঘটনা ঘটে চলেছে বসিরহাটে আগামী দিন আমরা আরো বড় সড় আন্দোলন পথ বেছে নেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

6 + 1 =