সনাতন গরাই, দুর্গাপুর :- দুর্গাপুরের কাঁকসার মলানদিঘীর বিষ্ণুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২বছর আগে প্রধান শিক্ষক পদে ছিলেন রবিলাল গরাই। কাঁকসার মলানদিঘীর বিস্টুপুরে বাস করেন এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। সত্তরের গন্ডি পেড়িয়েছেন তবুও ভালোবাসার টানে প্রত্যেকদিন যান স্কুলে। অবসরপ্রাপ্ত হওয়ার আগে থেকেই চোখের সম্যসাই ভুগছিলেন রবিলালবাবু। পরে চিকিৎসা করিয়েও কোনো কাজে আসেনি, ক্রমে ক্রমে একদম দৃষ্টিহীন হয়ে পরেন অবসর নেওয়ার পর। চোখের দৃষ্টিশক্তি হারালেও মনের দৃষ্টিতে সে একদম সচল। অবশ্য গ্রামের স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক ছিলেন সেকালে।সেইজন্য গ্রামের স্কুলের প্রতি এক অন্য ভালোবাসায় পরিণতি হয়েছে।

প্রতিদিন স্কুলের ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চা ছেলেদের হাত ধরেই স্কুলে পৌঁছে যান। বাচ্চা ছাত্র ছাত্রীদের পড়ান তাদের সাথে গল্প করেন। তারপর আবার বাচ্চা ছাত্রদের হাত ধরে বাড়ি ফিরে আসেন।বর্তমানের স্কুলের শিক্ষকরা জানান, মাস্টার মশাই প্রতিদিন স্কুলে আসেন। সব সময় স্কুলের প্রতি খেয়াল রাখেন। দৃষ্টিহীন হলেও উনি একদম আমাদের মতোই সচল। তিনি অবসর নিয়েছেন প্রায় ১২ বছর আগে কিন্তু স্কুলকে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে চাননি।রবিলালবাবু জানান, আমার নাতি নাতনিরা হাত ধরে স্কুলে নিয়ে আসে আবার হাত ধরে বাড়ি নিয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া অবসরের পর যেটুকু পেনশন পায় তাতেই চলে যায়। আমি এই স্কুলে ২৭ বছর চাকরি করেছি। তারপর অবসর নেওয়ার পর ও প্রত্যেকদিন স্কুলে এসেছি।অবসরপ্রাপ্ত হওয়ার চারবছর পর থেকে একদম আমি দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ি। স্কুলের বর্তমান মাস্টার মশাইরা আমাকে খুব শ্রদ্ধা করেন। এই ভাবেই স্কুল ছাত্রছাত্রী ও মাস্টার মশাইদের নিয়ে আমি আমার বাকি জীবনটা পার করতে চাই।সংবাদমাধ্যম আজ আমার এই কথা তুলে ধরার জন্য এগিয়ে এলো এটার জন্য সংবাদমাধ্যমকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

বর্তমানের স্কুলের প্রধান শিক্ষক ব্যাপী হাজরা জানান, আমি যখন থেকে এই স্কুলে আসি তার আগে থেকে মাস্টার মশাই রবিলালবাবু এই স্কুলে আসতেন। কোনোদিন বাচ্চাদের হাত ধরে, আবার কোনোদিন আমরা বাড়ি থেকে নিয়ে আসি। রবিলালবাবু খুদে পড়ুয়াদের ও আমাদের শিক্ষকদের খুবই ভালোবাসেন।বর্তমান প্রধান শিক্ষক ব্যাপী বাবু আরও জানান, এই স্কুলে পাঁচটা কক্ষ শিক্ষকের সংখ্যা ৪। এই অবস্থায় প্রাক্তন শিক্ষক আসেন ও ছাত্রছাত্রীদের পড়ান। ব্যাপী বাবু আরও বলেন, ওনার হাতে লাগানো বাগানের শান্ত পরিবেশে বাচ্চারা খেলাও করতে পারে। বিশ্বজুড়ে চলছে সবুজ সংকট, আমাদের স্কুলের বাচ্চাদের নিযে কখনো কখনো বৃক্ষরোপণ ও করা হয়। অন্যদিকে, স্কুলের দেওয়ালের চারিদিকে ব্যাপকভাবে ফাটল। সেই বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ব্যাপী বাবু বলেন, আমরা অপরমোহলে এই বিষয় নিয়ে চিঠি করলে পুনরায় চিঠি ঘুরে চলে আসে। “ঘুরে আসা চিঠিতে লেখা থাকে ফান্ডের অভাবে আমরা এই মুহূর্তে কিছু করতে পারছি না”। এই ফাটলের বিষয় নিয়ে নিকটবর্তী পঞ্চয়েতে জানানো হলে তারা প্রতিশ্রুতি দেয় কাজ করার জন্য। পঞ্চায়েতের ভরসায় এখন ছাত্র ও মাস্টার মশাইদের জীবন।