সংবাদদাতা, বসিরহাটঃ- বসিরহাট মহকুমার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া করোনা আক্রান্ত সংখ্যা বেড়েছে। শুধু সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলিতে নয়, পৌর এলাকা গুলিতেও করোনা আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। এখনো পর্যন্ত এই সমস্ত জেলায় প্রায় হাজার দুই মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় বসিরহাটের মেরুদন্ড ও হাসনাবাদের শিমুলিয়া কালিবাড়ি কর্মতীর্থ সেফহোম খোলা হয়েছে। এছাড়া বসিরহাট ও বাদুড়িয়ার পৌর এলাকাতেও সেফহোম খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বসিরহাট জেলা হাসপাতালের ৩৫ শয্যা কোভিড ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। বসিরহাট জুরের আক্রান্ত সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ায়। অক্সিজেনের আকাল শুরু হয়েছে অনেক জায়গাতেই। অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে বসিরহাটের নানান প্রান্তে।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বসিরহাটের মাটিয়া দেগঙ্গা দুই অক্সিজেন সরবরাহকারীদের দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। বেআইনি মজুদ বা কালোবাজারি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেই সতর্ক করে দেওয়া হয় সরবহকারীদের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ায় একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরা কালোবাজারি শুরু করে দিয়েছে। অন্য ক্ষেত্রে মাঝারি সিলিন্ডার ৫ থেকে১০ হাজার টাকা এবং বড় সিলেন্ডার ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। করোনার ভয়ে আবার অনেকেই মোটা অংকের টাকা খরচ করে বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ করে রাখছে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য। এর ফলে প্রয়োজনে কোভিড আক্রান্তের পরিবাররা অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ।

জীবনদায়ী অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারি এবং মজুদদারি বন্ধ করতে পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা। এই সমস্ত অভিযোগ পেয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। বসিরহাট রঘুনাথপুরে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের দোকানে হানা দেয় তারা। যে দোকানে এইদিন প্রশাসনিক কর্তারা হানা দেয় সেই দোকান থেকে বসিরহাট জেলা হসপিটালে এবং নার্সিংহোম গুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। প্রশাসনের তরফ থেকে ওই অক্সিজেন সরবরাহকারী কে সতর্ক করা হয়েছে কোনরকম অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। ওই সরবরাহকারী জানান কোম্পানি থেকে যে সমস্ত অক্সিজেন পাঠানো হয় আমাদের কাছে তা নিয়মমাফিক আমরা সরবরাহ করে থাকি। কোন কোন ক্ষেত্রে এই সীমিত মাত্র লাভ রেখেই আমরা অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকি।

তবে কোভিড আক্রান্ত সংখ্যা বেড়েছে বর্তমান চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অথবা করোনা হয়েছে এমন প্রমাণ দিলে তবেই অক্সিজেন সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে।

এই বিষয়ে বসিরহাটের এসডিপিও অভিজিৎ সিংহ মহাপাত্র বলেন, অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যাতে কোনো কালোবাজারি না হয়। তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কোনরকম অনিয়ম দেখলেই আইনগত পদক্ষেপ করা হবে।